ছাত্রলীগের সাবেকদের দাবি

সোহেল কোনো চাঁদাবাজ ছিলেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪২

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে গণপিটুনিতে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল চাঁদাবাজ ছিলেন না বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। তারা বলছেন, সোহেলকে ফাঁসানো হয়েছে। তার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ছিল।

রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি করেন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।

গত ৭ জানুয়ারি সোমবার সকালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের ‘পিটুনিতে’ সোহেল নিহত হন। সেদিন পুলিশ জানিয়েছিল, ‘চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ’ হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। সোহেলের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের বিষয়টিও জানিয়েছিল পুলিশ।

তবে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, ‘মহিউদ্দিন সোহেল কোন ছিঁচকে, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ছিল না। তার ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন।’

সোহেলকে হত্যার পেছনে তার মাদকের কারবারিদের হাত ছিল বলেও অভিযোগ রিপনের। বলেন, ‘দীর্ঘদিন ঢাকায় রাজনীতি করার পর গত বছর তার জন্মস্থান চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে গিয়ে দিশারী ক্লাবকে পুনরায় সংগঠিত করেন। ক্লাবটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ক্লাবটি কার্যক্রম ছিল না। এই ক্লাবটি পুনরায় সংঠিত করে তিনি স্থানীয় কয়েককটি মাদকের আখড়া ভেঙে দেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় কাউন্সিলর সাবের সওদাগরের নেতৃত্বে ও সাবেক জামায়াত ও বর্তমানে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা ওসমান গনি পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা কয়েকটি অনৈতিক ব্যবসার আখড়া ভেঙে দিয়ে এলাকাবাসীর জন্য জানাজার নামাজের মাঠ নির্মাণ করে দেন। এ ধরনের আরো জনকল্যাণকর উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে ভূমিদস্যু, মাদক এবং অসামাজিক কার্যকলাপকারীদের রোষানলে পড়েন সোহেল।’

সাংবাদিকরা খুনিদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন বলেও মনে করেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি। বলেন, ‘তাদের (সাংবাদিক) প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। শুধু জিজ্ঞাসা...তার নামে কোন মামলা জিডি মামলা না থাকা সত্ত্বেও তার মৃত্যুর পর ‘চাঁদাবাজ মহিউদ্দিন সোহেল গণপিটুনিয়ে নিহত’এমন সংবাদ প্রচার কেন?’

মহিউদ্দিনের মৃত্যুর কারণ দলীয় কোন্দল কি না- এমন প্রশ্নে জবাবে ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলেন, ‘অবশ্যই না। অভিযুক্ত কাউন্সিলর সাবের সওদাগর বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতা। তিনি আগে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ছিলেন। তবে আমি মনে করি হত্যাকারী এবং সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই।’

সোহেলের মৃত্যুর ঘটনায় গত মঙ্গলবার তার ভাই ডবলমুরিং থানায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও রেলওয়ে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক সাবের আহম্মেদ ও জাতীয় পার্টির নেতা ওসমান খানসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাবেক সহ-সভাপতি রাশেদুল মাহমুদ রাসেল, হাসানুজ্জামান লিটন, রফিকুল আলম গাফ্ফারী রাসেল, ফজলুল হক, আবু সাইদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান টুটুল, জসিম উদ্দিন, রিপন পোদ্দার, মিজানুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান শাহীন, সাবেক প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল, ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা টিপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা ও ওমর শরীফ, সাবেক সহ-সম্পাদক মফিজুল ইসলাম ঢালী, জুলফিকার আলী, শফিক আহমেদ, ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তারুল হাসান মিলটন, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মনির হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৩জানুয়ারি/এএ/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :