ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন রাসায়নিক আবিষ্কারের দাবি বাঙালি বিজ্ঞানীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৫১

ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর একটি রাসায়নিক আবিষ্কারের দাবি জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইহো অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক নামের একটি চিকিৱসাকেন্দ্র এই আবিষ্কারের দাবি করে বলেছে, তাদের তৈরি রাসায়নিকটি প্রচলিত কেমোথেরাপির দ্রবণের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে কার্যকর ফল মিলতে পারে। ক্যানসার কোষগুলির অতি দ্রুত বৃদ্ধি রোধ করতে পারে ওই রাসায়নিকটি। ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যানসার রিসার্চের জার্নাল’ এ তাদের এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

এই গবেষণার একজন বাঙালি বিজ্ঞানী শর্মিষ্ঠা দে জানিয়েছেন, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে দু’বছর গবেষণা করে ফুসফুস ক্যানসারের চিকিৎসার কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। যারা ফুসফুসের ‘স্মল সেল’ ক্যানসারে ভুগছেন, নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ক্যানসার। বিভিন্ন ক্যানসারের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। শর্মিষ্ঠা জানান, ফুসফুস এবং অন্য ছোট ক্যানসার আক্রান্ত কোষ অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এই ধরনের ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে রোগীকে বাঁচানো ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে। বিগত প্রায় তিন শতক ধরে একমাত্র কেমোথেরাপিই ছিল এই ক্যানসারের প্রধান ওষুধ। যদিও কেমোথেরাপি ক্যানসারকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না।কেমোথেরাপির এমন একটি পদ্ধতি তাদের গবেষাগারে উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে, যা অতিশয় কার্যকর বলেও জানান শর্মিষ্ঠা।

ওই গবেষণা পত্রে জানানো হয়েছে, যেসব কেমোথেরাপি চালু আছে, সেগুলো টিউমার ইনিশিয়েটিং কোষগুলি মারতে পারে না। ওই টিউমার ইনিশিয়েটিং কোষগুলি পরে কেমোথেরাপির প্রতিরোধক হয়ে দাঁড়ায়। তারা এমন একটি রাসায়নিক খুঁজে পেয়েছেন, যা এই স্মল সেল ক্যানসারে টিউমার ইনিশিয়েটিং কোষগুলিকে খুব সহজেই মারতে পারে। তারা দেখেছেন, সাধারণত প্ল্যাটিনামনির্ভর যে কেমোথেরাপি সিসপ্ল্যাটিন ব্যবহার হয়, তার সঙ্গে তাদের আবিষ্কৃত সিবিএল জিরোওয়ানথ্রিসেভেন রাসায়নিক প্রয়োগ করলে সেটি অনেক বেশি কার্যকর হয়। গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, সিবিএল জিরোওয়ানথ্রিসেভেন এবং সিসপ্ল্যাটিন একসঙ্গে নির্দিষ্ট ইঁদুরের দেহে প্রয়োগ করায় তাদের দেহে টিউমারের বৃদ্ধি কমেছে এবং তারা অনেক দিন বেশি বেঁচেছে।

শর্মিষ্ঠা জানান, ‘আমাদের উদ্ভাবিত চিকিৎসা পদ্ধতি সাদা ইঁদুরের উপরে কার্যকর হয়েছে। এই থেরাপি মানবদেহে প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। সেটি সফল হলে এই থেরাপি কার্যকর ওষুধ হিসেবে গণ্য হবে এবং বহু রোগীর প্রাণ বাঁচাবে।’

গবেষকদলের অন্যতম সদস্য শর্মিষ্ঠার পশ্চিমবঙ্গের আগরতলায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা। কলকাতার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে শারীরতত্ত্ব নিয়ে এমএসসি করেন।

ঢাকা টাইমস/১৪জানুয়ারি/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :