ইয়াবামুক্ত টেকনাফ চান বদি পত্নী

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৬

মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহিন আক্তার বলেছেন, তিনি ইয়াবামুক্ত টেকনাফ চান। আর এই কাজ তিনি একা করতে পারবেন না বলে তিনি জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে জয়ী শাহিনা এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী। বদি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক প্রতিবেদনে বদির নাম আসার পর তার বদলে শাহিনাকে এবার নৌকা প্রতীক দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সোমবার টেকনাফ উপজেলায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় এই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেছে, ‘আমি টেকনাফকে ইয়াবা মুক্ত করতে চাই, তবে এইটা আমার একা পক্ষে সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণকে একই সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
 
‘আমার নির্বাচনীয় এলাকা উখিয়া-টেকনাফের মানুষগুলো খুবই লক্ষ্মী। তবে এই এলাকার একটি কলঙ্কিত নাম হচ্ছে ইয়াবা। এ ইয়াবা যুব সমাজকে ধ্বংস করছে, তাই যেসব জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সদস্যরা দায়িত্বে রয়েছে তাদেরকে বলছি, ইয়াবা ও মানব পাচার বন্ধ করতে যা যা করার তা করতে হবে।’

ইয়াবার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে জানিয়ে বদি পতœী বলেন, ‘পাশাপাশি এলাকায় যাতে কোন নারী নির্যাতিত না হয় সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।’

সভায় ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিও। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইয়াবা ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কোনভাবে টেকনাফ থেকে ইয়াবা পাচার করতে দেওয়া হবে না।’

এই ধরনের এটাই হয়ত শেষ বৈঠক উল্লেখ করে বদি বলেন, ‘শুধু ইয়াবা বন্ধ করতে হয়। তাহলে প্রকৃত ইয়াবার মালিক ও বহনকারী গ্রেপ্তারের আইনের আওতায় আনতে হবে। ...পাচঁটি বছর ইয়াবা কলঙ্কিত পার হতে হয়েছে টেকনাফের মানুষকে, এখন এ কলঙ্ক ঘুঁচতে হবে।’

সবাইকে এক সঙ্গে ইয়াবা বন্ধ করতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য তার কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধও করেন।


টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, ২ বিজিবির (উপ-অধিনায়ক) মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইচ চেয়ারম্যান মো. রফিক উদ্দিন, পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম, টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহা, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমেদ আনোয়ারী, সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন, টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজান মিয়া, বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন, সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহম্মদ, বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, জনপ্রতিনিধি, কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :