অভিনেত্রী নওশাবার জামিন স্থায়ী

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩৯

ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে ফেসবুক লাইভে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় মডেল অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমদের জামিন স্থায়ী করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. দিদার হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
শুনানিকালে আদালতে হাজির ছিলেন আসামি নওশাবা।

তবে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তা না হওয়ায় আগামী ৩ মার্চ নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
নওশাবার আইনজীবী ইমরুল কাওছার বলেন, ‘গত বছরের ২১ আগস্ট তার অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর প্রতি ধার্য দিনে তিনি আদালতে হাজির হলে জামিন বাড়ানো হয়। তিনি জামিনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি, শারীরিকভাবেও অসুস্থ। তার মেডিকেল রিপোর্ট আমরা দাখিল করলে আদালত জামিন স্থায়ীর আবেদন মঞ্জুর করেন।’
গত বছরের ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। এরপর ৫ আগস্ট ৪ দিন এবং ১০ আগস্ট ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ১৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ২০ আগস্ট ঈদুল আজহার আগের দিন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারামুক্ত হন।

নওশাবার বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ‘এ আসামি নিজের মোবাইল থেকে নিজ নামীয় ফেসবুক আইডিতে গত ৪ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে উত্তরার ১৩নং সেক্টরের ৪নং রোডের ২নং বাড়ি থেকে অত্যন্ত আবেদনময়ী কন্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসাথে হোন। প্লিজ ওদেরকে প্রটেকশন দেন। বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন এবং ওদের প্রটেকশন দেন। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আমি এদেশের একজন মানুষ, নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি যে, জিগাতলায় একটু আগে একটি স্কুলে একটি ছেলের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একটু আগে ওদেরকে অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ প্লিজ ওদেরকে বাচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখই নামবেন। আপনাদের বাচ্চাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। এটা আমার রিকোয়েস্ট। যে পুলিশরা আছে, তারা অবশ্যই বাচ্চাদের প্রটেকশন দেন। আপনারা প্লিজ কিছু একটা করেন। সরকার যদি দায়িত্ব নিতে না পারে, তাহলে জনগণ কিসের জন্য আছেন আপনারা? আমরা ৭১ এ পেরেছি, ৫২ তে পেরেছি এবারও পারবো। আমাদের দরকার নাই কাউকে।’

‘তার এই আহ্বান মুহূর্তের মধ্যে দেশি-বিদেশি সামাজিক ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে ভাইরাল হয়, ফলে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্যেষ ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা তার এই মিথ্যা  প্রোপ্রাগন্ডার উৎস জানতে ফোন করলে তিনি সপক্ষে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এবং জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করতে এ ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করেন।’

(ঢাকাটাইমস/১৫জানুয়ারি/জেডআর/ এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :