নিরাপদ সড়ক বিধিমালার অভাবে গতিহীন আইন

আশিক আহমেদ
 | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:২৮
ফাইল ছবি: নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের কোনো প্রতিফলন নেই রাস্তায়। চালকদের স্বেচ্ছাচার আগের মতোই আছে। আইনে ফাঁক থাকার সুযোগ নিচ্ছে তারা। কারণ, এ দেশে একবার কেউ ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’ পেলে সেটি বাতিলের কোনো বিধান নেই।

গত সেপ্টেম্বরে অনুমোদিত নতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ বাস্তবায়িত হলে অবশ্য চালকদের এই সুযোগ আর থাকবে না। উন্নত বিশ্বের আদলে ড্রাইভিং লাইসেন্স শর্ত সাপেক্ষে বাতিলের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। ১১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকবে। একেকটা অফেন্স হলে পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট নিল (শূন্য) হলে লাইসেন্স বাতিল হবে।’ কিন্তু আইনের এই ধারা এখনো বাস্তবের মুখে দেখেনি। আইন লঙ্ঘনের প্রবণতাও কমেনি চালকদের মধ্যে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, আইন হলেও বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত তা প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। বিধি প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

তবে বিধিমালা তৈরির কাজ ধীরগতিতে চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকেই জানা যায়। অবশ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দাবি, বিআরটিএকে বিধিমালা তৈরির বিষয়ে বলা হয়েছে। তারা তা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এর পরই আলোর মুখ দেখবে আইন।

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস করা হয় সড়ক পরিবহন আইন। এ আইন প্রয়োগ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সড়ক নিরাপত্তায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা সরকারি কর্মকর্তারা। নাম-পদবি প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নতুন আইন প্রণয়নে তারা এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাননি। তারা আগের নিয়মেই সড়ক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। কিন্তু আগের আইনে ফাঁকফোকর থাকায় অন্যায় করেও অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছে।

তাদের দাবি, নতুন আইন কার্যকর করতে হলে বিআরটিএ এবং সড়ক বিভাগকে দ্রুতগতিতে বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এটা না হলে আইন থেকেও কোনো লাভ হবে না বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আবদুল মালেক ঢাকা টাইমসকে বলেন, কিছুদিন আগে আইন মন্ত্রণালয় আইনটির গেজেট করেছে। আর বিধিমালার বিষয়টি দেখছেন অতিরিক্ত সচিব (সম্পত্তি)।

যোগাযোগ করা হলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সম্পত্তি) রওশন আরা বেগম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এত দিন বিধিমালাটি করা যায়নি। আমরা এরই মধ্যে বিআরটিএকে বলেছি বিধিমালা প্রণয়ন করতে। তারা বিধিমালা প্রণয়ন করে আমাদের কাছে পাঠাবে। পরে আমরা সেটা অনুমোদন করব। এরপর রাস্তায় এটা কার্যকর করবে পুলিশ।’

বিধিমালা প্রণয়নের অগ্রগতি জানতে চাইলে বিআরটিএর পরিচালক (সড়ক ও নিরাপত্তা) শেখ মো. মাহবুব ই রব্বানি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আইন পাস করতে চার-পাঁচ বছর সময় লেগেছে। বিধিমালা তৈরির নির্দেশনা পেয়েছি গত সপ্তাহে। এ বিষয়ে আমাদের একজন পরিচালককে (প্রশাসন) আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। কত দিনে এই বিধিমালা হবেÑএ বিষয়টি এখন ওই কমিটির হাতে।’

যা আছে নতুন আইনে

সড়কে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেতে হলে লেখাপড়ার যোগ্যতা হিসেবে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। বাণিজ্যিক লাইসেন্সের জন্য হতে হবে ২১ বছর। আর ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৮ বছর।

নতুন আইনের ১১ নম্বর ধারায় চালকদের লাইসেন্স বাতিলের পয়েন্ট কাটার বিষয়ে কিছু নির্দেশনাও আছে। যেখানে বলা হয়েছে, পয়েন্ট কাটা যাবে লাল বাতি অমান্য করে যানবাহন চালানো হলে। পথচারী পারাপারের স্থানে আর ওভারটেকিং নিষিদ্ধ স্থানে ওভারটেকিং হলে। এমন আরও কিছু বিষয় আছে পয়েন্ট কাটার।

এদিকে নতুন আইনের ১২ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, ‘লাইসেন্সধারী কোনো ব্যক্তি অসুস্থ বা অপ্রকৃতিস্থ, শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে অক্ষম, মদ্যপ, অপরাধী বা অন্য কোনো কারণ দেখা দিলে তার লাইসেন্স স্থগিত, প্রত্যাহার বা বাতিল করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।’

নতুন আইনে লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানোর শাস্তি দ্বিগুণ করা হয়েছে। বর্তমান আইনে এই অপরাধে তিন মাসের কারাদ- এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। আর নতুন আইনে ছয় মাসের কারাদ- এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের কথা বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত