এবার পার্কিং খুঁজতে অ্যাপ

কাজী রফিক
 | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪০

স্মার্টফোনভিত্তিক অ্যাপসেবায় গাড়ি ভাড়ার পর এবার মিলছে পার্কিং করার জায়গা। এ জন্য গাড়ির মালিক বা চালকদের অ্যাপ ব্যবহারে কোনো বাড়তি টাকাও দিতে হয় না।

এই সেবা চালুর পর বাড়ির মালিকরাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। দিনভর যাদের পার্কিংয়ের জায়গা ফাঁকা পড়ে থাকে, তারা গাড়ি রাখার সুযোগ গিয়ে টাকা কামাতে পারছেন।

২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে এই অ্যাপটি চালু হয়। নাম, ‘পার্কিং কই’। প্রতিষ্ঠানের নাম ‘পাকিং কই ইনস লিমিটেড’।

প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাইমিনুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে জানান, গত এপ্রিলে অ্যাপটি তৈরি করা হয়। এরপর গত প্রায় নয় মাসে তারা বেশ ভালো সাড়া পেয়েছেন। বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে।

২০১৫ সালের মার্চে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবা পাঠাও এবং ২০১৬ সালের নভেম্বরে অ্যাপভিত্তিক গাড়ি ভাড়া সেবা উবারের সেবা চালু হয় ঢাকায়। এখন দুটি প্রতিষ্ঠানই গাড়ির পাশাপাশি মোটরসাইকেল সেবাও দিচ্ছে। তারা আসার পর গাড়ি ভাড়া করার বিড়ম্বনা দূর হয়েছে। ট্যাক্সিক্যাবের তুলনায় কম ভাড়ায় যাত্রীরা গাড়িতে চলতে পারছেন।

এই ধারাবাহিকতায় অ্যাপের পার্কিংসেবা অবৈধ পার্কিং সমস্যারও সমাধানের আশা করছে খোদ পুলিশ। তারা বলছে, এতে রাস্তায় পার্কিংয়ের প্রবণতা কমবে।

রাজধানী অন্যতম সমস্যা অবৈধ পার্কিং। সেখানে যেখানে গাড়ি রাখা রাজধানীর যানজটের একটি কারণ হিসেবে দেখা হয়। গাড়ি রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা আর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চ হারে ফির কারণে রাস্তার পাশে রাখতেই বাধ্য হন চালকরা।

চালক এবং মালিকরা বলছেন, রাস্তার পাশে, শপিং মল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে মূল সড়কের পাশে গাড়ি রাখতে হয়।

পার্কিং অ্যাপটি চালকদের আশপাশের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোথায় গাড়ি রাখা যাবে, সেটি খুঁজে দেবে। এর বিনিময়ে পয়সা দিতে হবে বাড়ির মালিককে। তবে কোথাও যদি বিনা পয়সায় গাড়ি রাখার সুযোগ থাকে, সেটাও জানাবে।

বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০ থেকে এক হাজার পর্যন্ত গ্রাহক এই সুবিধা নিচ্ছে। ‘পাকিং কই ইনস লিমিটেড’-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাইমিনুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দিনের বেলা খালি থাকে এমন পার্কিং ভাড়া দিতে চায় অনেক বাড়ির মালিক। এক্ষেত্রে ঘণ্টা হিসেবে কত টাকা নেবেন, সেটা ঠিক করেন বাড়ির মালিক। এখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো ভূমিকা রাখে না।

ঘণ্টার হিসেবে পার্কিং ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি, দিন ও মাসিক হিসেবেও ভাড়া নেওয়া এবং দেওয়ার ব্যবস্থা আছে অ্যাপসটিতে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, ভবন মালিকদের কাছে ভাড়া নিয়ে গাড়ি রাখার খরচ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রাখার চেয়ে কম।

কোন বাড়িতে কত টাকার বিনিময়ে গাড়ি রাখা যাবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো হার নেই। তবে এটি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ টাকার মতো হয় বলে জানিয়েছেন মুহাইমিনুল ইসলাম। সুপার শপেও এই অ্যাপ ব্যবহার করে গাড়ি রাখা যায়, সেখানে ঘণ্টায় ২০ টাকার মতো পড়ে বলে জানান তিনি। 

আপনাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ কী- এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন নেই। তবে যারা গাড়ি রাখবেন, তাদের কাছ থেকে কোনো কমিশন নেই না।’

অ্যাপ কোথায় পাওয়া যায়?

গুগল প্লে স্টোরেই আপাতত অ্যাপটি পাওয়া যায়। এটি ডাউনলোড করতে কোনো খরচ করতে হয় না। আর অ্যাপটি নামানোর পর বিভিন্ন তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।

যারা পার্কিং করবেন, তাদের পাশাপাশি নিবন্ধন করতে হয় বাড়ির মালিকদেরও যারা পার্কিং ভাড়া দিতে চান। তবে ঘণ্টা ধরে এই পার্কিং ভাড়া রাত সাড়ে ১১টার পর আর পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে দিন হিসেবে ভাড়া নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত