পঞ্চগড় শহরজুড়ে ট্রাক টার্মিনাল

পঞ্চগড় প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪৪

পঞ্চগড় টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কের দুই পাশে এলোমেলো করে পার্কিং করা হচ্ছে শতশত পণ্যবাহী ট্রাক। ফলে গোটা শহর পরিণত হয়েছে ট্রাক টার্মিনালে। যত্রতত্র পার্কিং এবং বেপরোয়া চলাচলে সড়ক-মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্টদের।

১৯৮৫ সালের ১৫ জুন প্রতিষ্ঠা হয় পঞ্চগড় পৌরসভা। এরপর ১৯৯৬ সালে জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় মাত্র ৫০ শতক জমির উপর নির্মাণ করা হয় পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল। সেই সময়ে মাত্র দুই থেকে আড়াইশ ট্রাক পঞ্চগড় থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করত। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় থেকে দুই হাজার ট্রাক এই জেলায় নিয়মিত যাতায়াত করে।

দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়েও বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে জেলা শহরের একমাত্র ট্রাক টার্মিনালটি সেই অবহেলাতেই পড়ে আছে। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবসহ দীর্ঘদিনে অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় ট্রাকচালক, পথচারীসহ স্থানীয় পৌরবাসীদের মাঝে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় মাটি খুড়লেই পাওয়া যায় ভূগর্ভস্থ পাথর। পঞ্চগড়ের বালিও যেকোনো নির্মাণ কাজের জন্য বেশ উপযোগী। এই পাথর এবং বালি পরিবহনের জন্য প্রতিদিন শতশত ট্রাক ঢুকছে পঞ্চগড়ে। এছাড়া জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে চতুর্দেশীয় শুল্কস্টেশন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল এবং ভুটান থেকে নিয়মিত পাথর আমদানি করছেন আমদানিকারকরা। বাংলাবান্ধা থেকে এসব পাথর সরাসরি ট্রাকের মাধ্যমে পরিবহন করা হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এর বাইরে রয়েছে ওই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিকৃত অন্যান্য পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়েজিত শতশত ট্রাক। আমদানিকৃত পাথরসহ বালি পরিবহনে পঞ্চগড়ে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার পাথরবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। বর্তমানে পৌরসভার একমাত্র টার্মিনালটির আশপাশে প্রতিদিন সকাল এবং বিকালে দুই থেকে এক হাজারের বেশি পাথরবাহী ট্রাক পার্কিং করা থাকে। ট্রাক টার্মিনালের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র পার্কিংয়ের ফলে শহরজুড়ে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছে পথচারীসহ সাধারণ নাগরিক। একমাত্র টার্মিনালটিতে ট্রাক রাখার জায়গা না পেয়ে অধিকাংশ সময় এসব ট্রাক রাস্তায় পার্কিং করা হয়। এতে প্রায় সময় জেলা শহরে প্রবেশের একমাত্র সড়কটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

এছাড়া দীর্ঘদিনেও সংস্কারের অভাবে টার্মিনালের ভবনটিও ঝুঁকিপূর্র্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভবনের ছাদ এবং ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে গেছে। সেখানে ট্রাকচালকদের কোনো বিশ্রামের ব্যবস্থাও নেই। ভবনের ভেতরে কেউ যেতে পারছে না। যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পরিবহন মালিক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় ট্রাকচালক আরিফ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘স্থানীয় পৌরসভা প্রতিবছর এই ট্রাক টার্মিনাল উচ্চমূল্যে ইজারা দিয়ে নিয়মিত খাজনা আদায় করছে। অথচ আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। টার্মিনালে ট্রাক রাখার জায়গা নেই। এজন্য বাধ্য হয়ে আমরা টার্মিনালের বাইরের সড়কে ট্রাক পার্কিং করি।’

টার্মিনাল সংলগ্ন তেলিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হাসিবুল করিম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল এবং বিকালে সড়কের উপর শতশত ট্রাক এলোমেলো দাঁড়ানো থাকে। এতে সড়কটি অবরুদ্ধ হয়ে যায়। চলাচলে আমাদের সমস্যা হলেও কেউ চোখ তোলে তাকায় না।’

পঞ্চগড় মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি  মোশাররফ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে পঞ্চগড়েও কমবেশি উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু আমাদের একমাত্র ট্রাক টার্মিনালটির দিকে তাকালে এর দৈন্যদশা চোখে পড়ার মতো।’

পঞ্চগড় পৌরসভা মেয়র তৌহিদুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এডিবি অর্থায়নে পঞ্চগড় পৌরসভায় একটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এই প্রকল্পের অর্থায়নে ট্রাক টার্মিনাল নিয়েও একটি প্রকল্প দেওয়া আছে। পঞ্চগড় পরিদর্শনে আসার পর প্রকল্প পরিচালকের কাছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশানসহ পৌরসভার পক্ষ থেকে যৌথভাবে টার্মিনাল সম্প্রসারণের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দাবি জানানো হয়েছে। এই প্রকল্প অনুমোদন হলে আশা করি সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :