পুলিশ এত পরিশ্রমী, জানতেন না শাহনাজ

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৩

হঠাৎ আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠা শাহনাজ বেগমের আপাতত দুশ্চিন্তার অবসান হয়েছে তার আয়ের অবলম্বন বাইকটি ফিরে পাওয়ায়। পুলিশের প্রতি তার অশেষ কৃতজ্ঞতা। বলেছেন, চুরি যাওয়ার পর অনেকেই বলেছিলেন, বাইকটি আর পাওয়া যাবে না। তার মনেও ছিল সংশয়।

প্রতারণা করে তার দুই চাকার যানটি নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সংগ্রামী এই নারী পণ করেছিলেন, যতক্ষণ এটি ফেরত পাবেন না, ততক্ষণ হেলমেট খুলবেন না। আর পুলিশও তৎপর হয়। ঢাকা থেকে খোয়া যাওয়া বাইকটি উদ্ধার হয় নারায়ণগঞ্জ থেকে।

বাইকটি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হন শাহনাজ। বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই পুলিশ প্রশাসনের ভাইদের। এত পরিশ্রম করতে পারে বাংলাদেশের পুলিশ যেটা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। উনারা চাইলে চেষ্টা করলে এমন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।’

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে উদ্ধার হওয়া বাইকটি গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের উপ কমিশনারের কার্যালয়ের শাহনাজের হাতে বাইকটি তুলে দেওয়া হয়।  

বাইকটি উদ্ধারের কথা তুলে ধরে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, শাহনাজের বাইকে চড়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন জুবাইদুল ইসলাম জনি। বলেন, দিনে তিন থেকে চারশ টাকা আয় করেন। তার পরিচিত বেসরকারি কোম্পানি আছে। সেখানে ভাড়া মারলে প্রত্যেকদিন পাঁচশ টাকা করে দেওয়া হবে।

এই আশ্বাস পেয়ে মঙ্গলবার জনিকে কল দেন শাহনাজ। রাজধানীর খামারবাড়িতে দেখা করেন। পরে বিমানবন্দর এলাকায় ওই লোকের সঙ্গে পরিচিত হতে যান তারা। সেখান থেকে তিন জন মিলে আবার আসেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে। সেখানে স্কুটি চালানো শেখার কথা বলে বাইক চালিয়ে চলে যান জনি।

বাইক নিয়ে জনি চলে গেছেন বুঝতে পেরে শাহনাজ ছুটে যান শেরেবাংলা নগর থানায়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই সংবাদ চলে আসে। আর পুলিশও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।

পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন জনি ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে তেজগাঁও জোনের সহকারী উপকমিশনার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন ফতুল্লায় গিয়ে জনিকে গ্রেপ্তার করেন। আর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি গ্যারেজ থেকে বাইকটি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় শাহনাজের দুই মেয়ের জন্য কিছু অর্থ উপহার হিসেবেও দেন পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার। তবে এই উপহার দিতে বেগ পেতে হয় তাকে।

টাকা নিতে না চাওয়া এই নারী বলেন, ‘আমার বাইকটা আমার হাতে দেন। আমি কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা চাই না। কারণ এটা আমার রুটি রুজি।’

বিপ্লব বলেন, ‘এটা সাহায্য না। আমি আপনার সন্তানদের জন্য এটা দিলাম।’

পরে সবার অনুরোধে টাকাটা নেন শাহনাজ। বলেন, ‘আমি এই দেশের পুলিশকে এমন পরিশ্রম করতে দেখিনি। আমাকে অনেকে বলেছিল এই বাইক গেছে এটা পাওয়া যাবে না। পুলিশ বের করতে করতে এই বাইক কোথায় কে বিক্রি করে খেয়ে ফেলেছে।’

‘এমনও শুনেছি, পুলিশের কাছে তো অনেক মামলায় থাকে তোমার বাইক নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। তাই এটার আশা কর না। অন্য ধান্দা দেখ বা অন্য কাজ দেখ। আমার মা পর্যন্ত চুরির পর অনেক রাগারাগি করেছে। টাকা দিয়ে গাড়িটা কিনলি, যারে চিনিস না তাকে বসতে দিলি ক্যান।’

‘এত কিছু শোনার পরও আমি কল্পনা করিনি একরাতের মধ্যে আমার মোটরসাইকেল উদ্ধার হবে। এটার আনন্দ যে কত টুকু সেটা আমি বুঝিয়ে বলতে পারব না’- বলেন আপ্লুত শাহনাজ।

‘আমি ধন্যবাদ জানাই পুলিশ ও সাংবাদিক ভাইদের। আমার এই ব্যাপারে সাংবাাদিকরা অনেক সাহায্য করেছে। তারা না হলে আমি এতদূর আগাতে পারতাম না।’

নিজের জীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে শাহনাজ আরো বলেন, ‘এই বাইক দিয়ে আমি কর্ম করি। এইটা দিয়েই আমার সংসার চলে। সকাল হলেই আমার মেয়েকে একশ টাকা দিতে হয়। তারা এই টাকা দিয়ে নাস্তা করে, টিফিন করে। আর এই সব করতে হয় আমার মোটরসাইকেল চালিয়ে।’

ঢাকাটাইমস/১৬জানুয়ারি/এসএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত