পোল্ট্রিশিল্পে দুর্দিন

প্রোটিন জোগানের প্রধান ক্ষেত্রটি রক্ষা করুন

আরিফুর রহমান
| আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১১ | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৬

পোল্ট্রি খামারে আগ্রহ কমছে বিনিয়োগকারীদের। উৎপাদিত মুরগি ও ডিমের ভালো দাম না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হচ্ছে। চাকরির পিছু না ছুটে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যারা একসময় পোল্ট্রিশিল্পে ঝুঁকতেন, তারা এখন বিকল্প পথ খুঁজছেন। দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন খামারের এই চিত্র উঠে এসেছে গতকাল ঢাকা টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। 

এর পেছনে রয়েছে নানা কারণ। এক দিনের বাচ্চার দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। তার চেয়েও বেশি বেড়েছে মুরগির খাবারের দাম। ফলে ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ আর বিক্রিমূল্যের পার্থক্য কমে খামারিদের লোকসানের মুখ ফেলছে।

ঋণ নিয়ে যারা খামার করেছেন তারা আছেন বড় বিপাকে। না পারছেন খামারের ব্যয়ভার বইতে, না পারছেন ঋণ পরিশোধ করতে। আয়ের চেয়ে কোনো ক্ষেত্রে ব্যয় বেশি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে খামার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।

দেশের জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খাবারের চাহিদা। পোল্ট্রিশিল্প দেশের মোট প্রোটিন চাহিদার বড় একটা অংশের জোগান দিচ্ছে। ছোট এই দেশের বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে ডিম ও মাংসের সরবরাহ আসছে এই শিল্প থেকে। পোল্ট্রিশিল্প এগিয়ে না গেলে আমাদের দারিদ্র্যপীড়িত অনেক পরিবারের পাতে মাংস মিলত না। কেননা জনসংখ্যার বিপরীতে দেশি মুরগি বা ডিমের উৎপাদন একেবারেই নগণ্য। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ সহনশীল পর্যায়ে রাখতে পোল্ট্রি শিল্পকে ধ্বংসের মুখ থেকে রক্ষা করতে হবে।

পোল্ট্রিশিল্পের দুর্দিন দীর্ঘায়িত হলে আরও নানা সংকট তৈরি হবে দেশে। কর্মসংস্থান কমবে, বেকারত্ব বাড়বে। চাহিদা অনুযায়ী প্রোটিনের সরবরাহ কমে যাবে। এতে বেড়ে যাবে ডিম ও মাংসের দাম।

এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পোল্ট্রিশিল্পে দুর্দিন সৃষ্টির কারণগুলো খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা আসলেই মূলধন হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তাদের প্রণোদনা বা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

খামারিরা যদি লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে খামার বন্ধ করে দেন, এই ব্যবসায় আগ্রহ হারান, তাহলে এই খেসারত দিতে হবে সামগ্রিকভাবে। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কমলে ডিম ও মাংসের দামও বাড়বে অপ্রত্যাশিতভাবে, যা আমাদের খাদ্যমূল্য স্ফীতিতে প্রভাব ফেলবে।

কী কারণে পোল্ট্রিশিল্পের খাবারের দাম বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তা ছাড়া এক দিনের বাচ্চার দামেও হঠাৎ উল্লম্ফনের কারণও খুঁজতে হবে। কীভাবে এই দুই সংকটের সমাধান করে খামারিদের স্বার্থরক্ষা করা যায় সেটি দ্রুত বের করা প্রয়োজন। কর্মসংস্থান রক্ষা, প্রোটিন ও খাবারের চাহিদা ঠিক রাখতে পোল্ট্রিশিল্পকে রক্ষায় যত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে, ততই মঙ্গল।    

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজপাট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :