বিজয় উৎসবে মেলেনি আমন্ত্রণ

আওয়ামী লীগের উপেক্ষায় হতাশ শরিকরা

তানিম আহমেদ
 | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৭

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভোটে লড়লেও নির্বাচনের ‘জয়ের উৎসবে’ নৌকা নিয়ে লড়া শরিকরা সবাই ছিল অনুপস্থিত। আওয়ামী লীগ তাদের আমন্ত্রণ জানায়নি, আর এই অবস্থায় বিজয় উৎসবে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা।

গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে শরিকদের আসন মিলিয়ে মহাজোটের ভাগে পড়েছে ২৮৮টি। এর মধ্যে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ২২টি আসন পাওয়া জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া ওয়ার্কার্স পার্টির তিন জন, জাসদ ও বিকল্পধারার দুই জন করে আর তরীকত ফেডারেশনের একজন সংসদ সদস্যকে আওয়ামী লীগ ঠেলে দিতে চাইছে বিরোধী দলে। বাইসাইকেল নিয়ে জাতীয় পার্টি-জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকেও সরকারি দলের আসনে বসাতে চায় না ক্ষমতাসীন দল। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খোলাখুলিই বলেছেন, এরা বিরোধী দলে গিয়ে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিলেই ভালো হয়।

এই পরিস্থিতিতে ভোটের ১৯ দিন পর বিজয় উৎসবে আমন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত হলেন শরিক দলের নেতারা। আর দাওয়াত না পাওয়ার বিষয়টি মর্মাহত করেছে তাদের। যদিও এর আগে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ অনুষ্ঠানে তাদের বক্তৃতা দিতে দেখা গেছে।

অবশ্য জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তারকে দেখা গেছে উৎসবে। তিনি আমন্ত্রণ ছাড়াই যোগ দিয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দীর উৎসবে।
আওয়ামী লীগের নেতারা এটা তাদের দলীয় কর্মসূচি। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতির বিষয়েই বিষয়ে নজর দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, এটাতো আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব। দাওয়াত দেওয়া হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই।  

১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগ ‘একলা চলো’ নীতিতে হাঁটছে। তবে বিজয় সমাবেশের মত বড় আয়োজনে তারা আমন্ত্রণ পাওয়ার আশা করেছিলেন।

১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে আমরা দাওয়াত পাইনি। তিনি বলেন, এটা দৃষ্টিকটূ। আমরা থাকলে বিজয় সমাবেশ আরও ভালো হতো।’

‘আমরা যেহেতু জোটগতভাবে নির্বাচন করেছি তাই বড় এই বিজয়ের অংশীদার আমরাও।’  
১৪ দলের আরেকটি শরিক দলের নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কেন যেন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের ইচ্ছে করে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। মন্ত্রিসভায় আমরা থাকব কি থাকব না সেটা বড় করে দেখছি না। তবে আমরা কোথায় থাকব এটা জোটগতভাবে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। তার আগেই দূরে সরিয়ে রাখার নানা কৌশল করা ঠিক হচ্ছে না। এটার জন্য আওয়ামী লীগকে মূল্য দিতে হবে।’

আরেকটি শরিক দলের নেতা বলেন, ২০০৫ সালে ২৩ দফার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আদর্শিক জোট হয়। এই জোট সুখে যেমন থাকার কথা তেমনি দুঃখেও। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের আচরণ জোটে ফাটল ধরানোর মত। যা অনাকাঙ্ক্ষিত।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে দাওয়াত পাইনি। তাই যাওয়া হয়নি। আমি আমার গ্রামের বাড়ি আছি।’

জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘শুনেছি আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশের কথা। আনুষ্ঠানিক দাওয়াত পাইনি। জোটগতভাবে আলোচনা করে যে দূরত্ব তৈরি হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তা আলোচনা করে সমাধান জরুরি।’

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘একটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে জোটে। এটা আলোচনা করে সমাধান করা উচিত।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :