বন্ধের ১৯ দিন পর ঝুলল বিজ্ঞপ্তি!

শরীফ রুবেল
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:৩৪

সরকারি উদ্যোগে রাজধানীতে শিশুদের একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র শাহবাগের কেন্দ্রীয় শিশু পার্ক। খরচ অনেক কম বলে অনেকেই এখানে আসেন। অথচ এটি ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ। অনেকেই তাই ছোটদের নিয়ে এসে বিফল মনোরথে ফিরে যাচ্ছেন। কেন বন্ধ, তা জানারও উপায় ছিল না এতদিন। ১৯ দিন পর পার্কটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মনে পড়েছে ব্যানার দেওয়ার কথা। গতকাল এটি ঝুলানো হয়েছে। যেখানে লেখা রয়েছে, উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য এটি আপাতত বন্ধ থাকবে। প্রকল্পের কাজ শেষে আবার তা খুলে দেওয়া হবে।

তবে ডিএসসিসি ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দাবি করা হচ্ছে, ব্যানার ঝুলানো হয়েছে ৬ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু সেই ব্যানারেই ৭ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো কোনো জাতীয় দৈনিকে শিশু পার্ক বন্ধের বিজ্ঞপ্তি ছিল, তা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মানে ব্যানারে যে তারিখ উল্লেখ আছে, আসলে তা তৈরি ও লাগানো হয়েছে অনেক পরে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই শিশু পার্ক আধুনিকায়ন করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর জন্য ব্যয় করা হবে ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এতে হচ্ছে ৫০০টি গাড়ির রাখার জায়গা নিয়ে ‘ভূগর্ভস্থ পার্কিং’ এলাকা। হচ্ছে জলাধারসহ পায়ে চলা পথ, আন্ডারপাস ও মসজিদ। আরও করা হচ্ছে আধুনিক রাইডসহ শিশুপার্ক। এর মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় শিশু পার্ক নতুন চেহারা পাবে।

এদিকে শিশু পার্ক বন্ধ থাকার বিষয়টি এখনো ঠিকমতো জানানো হয়নি নগরবাসীকে। তাই অনেকেই ছোটদের নিয়ে এখানে আসছে। এমনি একজন উত্তরার লাভলী বেগম। তিনি জানালেন, গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে তার ছোট বোন। সঙ্গে বাচ্চারাও আছে। তাদের শখের কারণেই এসেছিলেন শাহবাগে। আসার পরে দেখেন শিশু পার্ক বন্ধ। এতটা পথ এসে এই অবস্থা দেখে ছোটরা খুব কষ্ট পেয়েছে।

তবে ডিএসসিসি থেকে দাবি করা হয়েছে, উন্নয়ন কাজের জন্য আপাতত বন্ধ থাকবে শিশু পার্ক- এ বিষয়ে তারা একাধিক জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। পার্কে ১৯ দিন পর ব্যানার ঝুলানো হলো কেন, তার সদুত্তর দিতে পারেনি ডিএসসিসির কেউ।

গিয়ে দেখা গেছে, শিশু পার্কের ভেতরে একদিকে চলছে ভাঙচুর। অন্যদিকে চলছে উন্নয়ন কাজ। পুরানো সব রাইড সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বুলডোজার। নতুন স্থাপনা নির্মাণের জন্য মাটি খননকাজও চলছে। এখনো সরেনি টিকিট কাউন্টারগুলো। তবে সেখানে কেউ নেই। এখানকার ফুডকোর্টগুলো ভাঙার কাজ চলছে। পুরো শিশু পার্ক এলাকা ধুলোয় মলিন হয়ে আছে।

শিশু পার্কের নিরাপত্তাকর্মী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, পার্কের উন্নয়ন কাজ শেষ হলে খেলনা বসাবে সিটি করপোরেশন।’

পার্ক বন্ধ থাকার বিষয়টি জানেন না বাড্ডার বাসিন্দা সিয়াম আহম্মেদ। তিনি বললেন, ‘পার্ক বন্ধ থাকবে, এ ধরনের প্রচারণা চালায়নি কর্তৃপক্ষ। তাই বন্ধুদের নিয়ে এক দিন এসেও ফেরত গিয়েছেন। সেদিন অনেক খারাপ লেগেছে।’

উন্নয়ন কাজের জন্য শিশু পার্ক বন্ধ থাকবে- এ নিয়ে প্রচারণা কম চালানো হয়েছে, এ কথা স্বীকার করেন ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক সার্কেল) আনিছুর রহমান। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মানুষ এখনো এসে ফেরত যাচ্ছে, এটা শুনেছি। তাই আবারও বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাব।’

নতুন চেহারা নিয়ে শিশু পার্ক কবে খুলবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে অন্তত এক বছর লাগবে, কাজ শেষ হতে। ‘ডিসেম্বরের আগে শিশু পার্ক চালু হবে না। এটুকু বলতে পারি’- বলেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত