ইনুর জাসদে জামায়াতের ৫০ কর্মী

এস কে হালদার, কুষ্টিয়া
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৩

জাসদের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্ব মেনে তার দলে যোগ দিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর একদল কর্মী। যোগদানকারীদের সংখ্যাটি সব মিলিয়ে প্রায় ৫০।

স্থানীয় জাসদ নেতারা বলছেন, তাদের সভাপতি ইনুর উন্নয়ন কর্মকা-ে আকৃষ্ট হয়ে জামায়াতকর্মীরা দল পাল্টেছেন। তবে এসব তথ্য অস্বীকার করেছেন ইনু।

দল পাল্টানো জামায়াত কর্মীরা বলছেন, তারা মামলা থেকে বাঁচতে এই কাজ করেছেন। আর স্থানীয় আওয়ামী লীগ বলছে, জাসদ আর জামায়াত একজোট হচ্ছে।

গত শনিবার ইনুর নিজ এলাকা কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাজিহাটে এই যোগদান অনুষ্ঠান নিয়ে তোলপাড় চলছে এলাকায়। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি বিষয়টি স্বীকার করলেও মিরপুর উপজেলা ও জেলা জাসদের নেতারা দাবি করছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

জাসদ সভাপতি ইনুর সঙ্গে ঢাকা টাইমসের ঢাকা কার্যালয় থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কখন এই বিষয়টা হয়েছে তা আমি জানি না। এটা চেক করে কনফার্ম হয়ে জানাতে পারব। আর আমাদের পার্টির এ রকম কোনো পলিসি নাই।’

কিছুক্ষণ পর ইনু নিজে ফোন করে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি চেক করেছি, তারা জামায়াত করত না। তারা সবাই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।’

এর মিনিট দশেক পর ইনু আবার ফোন করে বলেন, ‘সাংবাদিক ভুল করেছে। এটা অসত্য তথ্য। নূর ইসলাম জামায়াত করত না। এরা কেউই জামায়াত করত না। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

ইনু গত কয়েক বছর ধরে জামায়াতবিরোধী কট্টর অবস্থান নিয়ে দলটির তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশকে জামায়াতমুক্ত করতে হবে।

অবশ্য গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ও জাসদের মিত্রতায় একরকম ভাটা পড়েছে। ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ জাসদকে এবার সংসদের বিরোধী দলে বসাতে চাইছে ক্ষমতাসীন দল। গত মেয়াদের মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

যারা যোগ দিয়েছেন

ইনুর নিজ এলাকায় জামায়াত কর্মী নুর ইসলামের নেতৃত্বে অন্য যারা জাসদে যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন শের আলী, আবুছদ্দীন, রেজন আলী, রাশিদুল ইসলাম, মোহর আলী, সামছুল আলম, সোলাইমান প্রমুখ। তারা কুর্শা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি জামিরুল ইসলাম ও ওয়ার্ড জাসদের সভাপতি আরব আলীর হাতে হাত দিয়ে দলটিতে যোগ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ নেতা ইকতার আলী, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাহার আলী, সামছুম আলী, তাইজাল আলী শেখ, ইদবার আলী, ওয়ারেশ মল্লিক, যুব জোটের নেতা হুমায়ন কবির।

স্থানীয় জামায়াত-জাসদের বক্তব্য

দল ছেড়ে আসা জামায়াত কর্মী নুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও আতঙ্কে ভুগেছি। আমরা আর নাশকতার মামলায় জড়াতে চাই না। আর জাসদের কর্মকা-ের জন্য আমরা দলটিতে যোগদান করেছি। যাতে ভবিষ্যতে আর মামলা না হয়।’

স্থানীয় ওয়ার্ড জাসদ সভাপতি ও কুর্শা ইউপি সদস্য আরব আলী বলেন, ‘তারা আগে জামায়াত করত। এখন তারা জাসদে যোগদান করেছে।’

কুর্শা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘জাসদের সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মহাদয়ের উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদকমুক্ত সমাজ, ঘরে-ঘরে বিদ্যুৎ, কাদামুক্ত পাকা রাস্তাসহ মিরপুর উপজেলা অভূতপূর্বক উন্নয়ন দেখে জামায়াতের ৫০ জন নেতাকর্মী নিজ উদ্যোগে জাসদে যোগ দিয়েছেন।’

তবে জামায়াত কর্মীদের জাসদে যোগদানের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী।

জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসীন জানান, ‘জাসদ স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি, জামায়াত, যুদ্ধাপরাধীদের দলে নেবে না। যদি কেউ আত্মীয়তার খাতিরে জামায়াত কর্মীদের দলে নিয়ে থাকে তাহলে আমরা তার অনুমোদন দেব না।’

আ.লীগ যা বলছে

জাসদে জামায়াত কর্মীদের যোগদানের বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না স্থানীয় আওয়ামী লীগ। কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘জাসদের নেতাকর্মীরা তাদের সমর্থন দিন দিন হারিয়ে ফেলে এখন জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তাই তারা জামায়াতের নেতাকর্মীদের দলে নিচ্ছে।’

‘আর যাদের নিয়েছে তারা সবাই একাধিক নাশকতার মামলার আসামি। এলাকায় সরকারবিরোধী কথাবার্তা ও কর্মকা- করে বেড়ায়। দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করে যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে চক্রান্তে লিপ্ত ছিল, তারা এখন জাসদের শেল্টারে মাথা উঁচু করতে চাচ্ছে।’

মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত তাদের মুখোশ পাল্টে জনসাধারণের ক্ষতি করতে চায়। এরা এখন জাসদে যোগ দিয়ে মাথা তুলতে চাইছে। ভবিষ্যতে আবার দেশের ক্ষতি করতে চায়। জাসদ কেন তাদের নিচ্ছে সেটা তারাই বলতে পারে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত