ফায়ার সার্ভিস ও খাদ্য কর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৫

প্রকাশ | ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৬ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪২

বরিশাল ব্যুরো, ঢাকাটাইমস

বরিশালে রেশনের চাল ও গম উত্তোলন নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাছাড়া সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম (এলএসডি)-এর পরিদর্শকের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।

সোমবার বিকাল ৩টার দিকে নগরীর ভাটারখাল এলাকায় সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সংলগ্ন স্থানীয় সরবরাহ বিভাগে (এলএসডি) এই সংঘর্ষ হয়।

আহতরা হলেন- সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির ও নিরাপত্তা প্রহরী রেজাউল ইসলাম, সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের (এলএসডি) পরিদর্শক (ওসি) নজরুল ইসলাম, সদর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী সহিদুল ইসলাম। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে খাদ্য বিভাগের দুই কর্মচারীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বরিশাল সদর খাদ্য গুদামের পরিদর্শক (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, বিকাল ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন কয়েকজন ফোর্স নিয়ে তাদের বরাদ্দের দুই টন চাল ও দুই টন গম নেয়ার জন্য এলএসডিতে আসে। লেবার না থাকায় তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু অপেক্ষা না করে তারা দ্রুত চাল ও গম নিয়ে যেতে চায়।

ওসি বলেন, এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় স্টেশন অফিসার আলাউদ্দিন ও তাদের লেকেরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এমনকি একটি চেয়ার ধরে আমার গয়ে ছুড়ে মারে ও একজন কর্মচারীকে মারধর করে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, এ ঘটনার কিছু সময় না যেতেই স্টেশন অফিসে মোবাইল করে দুই পিকআপ ফায়ার কর্মীকে ডেকে আনে। তারা এলএসডির গেটে আটকে খাদ্য গুদামের ওসির রুমের চেয়ার টেবিল ও জানালার গ্লাস ভাঙচুর এবং কাগজপত্র তছনছ করে। তখন বাধা দিতে গেলে ওসি (এলএসডি) নজরুল ইসলাম, এসআই হুমায়ুন কবির ও দারোয়ান রেজাউলকে বেধড়ক মারধর করে।

এদিকে খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তাদের সামনেই দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত থাকে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আহত দুজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সদর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, আমরা কোন ভাঙচুর বা কাউকে মারধর করিনি। বরং ওরাই আমাকে এবং আমার লোকদের উপর হাত তুলেছে। ওরা নিজেরা ভাঙচুর করে আমাদের ফাঁসাতে চাইছে।

তিনি বলেন,  সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম দুর্নীতি এবং অনিয়মের আকড়া। ইতোপূর্বে আমরা রেশনের চাল ও গম উত্তোলন করেছি। কিন্তু যে পরিমাণ পাবার কথা তা আমাদের দেয়া হয়নি। তারা আমাদের রেশনের চাল ও গম চুরি করে কমিয়ে রাখে।

তিনি আরো বলেন, গত ২০ দিন ধরে আমরা চার টন চাল ও গম উত্তোলনের জন্য এখানে এসে ঘোরাঘুরি করছি। কিন্তু তারা আজ না কাল বলে আমাদের ভোগান্তিতে রেখেছে। সোমবার আবার রেশনের চাল ও গম নিতে এলে এলএসডির ওসি আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি বরাদ্দপত্র আমার গায়ে ছুড়ে মেরে চাল-গম দেবেন না বলে বেরিয়ে যেতে বলেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমিসহ আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের অন্য কর্মীরা এসে আমাদের উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কথা বলে যতটুকু বোঝা গেছে তাতে রেশনের চাল ও গম কম দেয়া নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পূর্বে থেকেই ক্ষোভ ছিল। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আজ। তবে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। পাশাপাশি অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/এলএ)