তুরস্কে ‘অদ্ভূত’ ভোটার তালিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৯

তুরস্কে মার্চ মাসে যে স্থানীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে- তার আগে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় স্থান অদ্ভূত কিছু বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। যা নিয়ে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়েছে।

যেমন- কিছু ভোটার আছেন যারা এই প্রথমবার ভোট দেবেন কিন্তু তাদের বয়স ১০০-র ওপর। একজন ভোটারের বয়স ১৬৫ বছর। পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত লোক বলে যার নাম জানা যায় তার চাইতেও বেশি বয়স তার। বিরোধীদলগুলো বলছে, তারা ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে দেখেছে যে একটি বিশেষ অ্যাপার্টমেন্টকে ঠিকানা হিসেবে দেখিয়ে এক হাজারেরও বেশি ভোটার তাদের নাম নিবন্ধন করিয়েছেন।

তুরস্কে এই ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে হৈচৈ। রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, এই ভোটার লিস্টে নানা কারসাজি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, মার্চ মাসে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তাতে হয়তো প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের একে পার্টি গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। অর্থনীতির স্থবিরতার কারণে এবার রাজধানী আংকারাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে হেরে যেতে পারে।

রিপাব্লিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (এইচডিপি) অভিযোগ করেছে, গত নির্বাচনে একে পার্টি যেসব এলাকায় সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছিল- সেই আসনগুলোতে এই অস্বাভাবিক ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিরোধীদলগুলো বলছে, কোন কোন ঠিকানায় সন্দেহজনক রকমের বিপুলসংখ্যক ভোটার নিবন্ধিত দেখা যাচ্ছে।

একটি ফ্ল্যাটের ঠিকানায় নিবন্ধিত হয়েছে ১ হাজার লোক। অনেক ভোটার এমন ভবনকে ঠিকানা হিসেবে দেখিয়েছেন যাতে কেউ থাকেন না। কোনো কোনো ভবন এখনও নির্মাণাধীন।

ইস্তাম্বুলে একজন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন- যিনি চারতলা একটি ভবনের পাঁচ তলায় থাকেন বলে দেখানো হয়েছে। সিএইচপি বলছে, তারা ৬ হাজারেরও বেশি রেজিস্টার্ড ভোটার পেয়েছেন যাদের বয়স ১০০ বছরের বেশি। এদের অনেকের বয়েস আবার পৃথিবীর প্রবীণতম জীবিত ব্যক্তির চেয়েও বেশি। রেকর্ড অনুযায়ী পৃথিবীর জীবিত প্রবীণতম ব্যক্তির বয়স হচ্ছে ১১৬।

এর মধ্যে একজন ভোটার আছেন যার নাম দেয়া হয়েছে আয়েস একিচি। যার জন্ম বলা হয় ১৮৫৪ সালে, যখন তুরস্ক অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। সিএইচপি বলছে তিনি নাকি এবারই প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। জুলফু এবং আয়েস নামে আরো দুজন ভোটারের বয়েস বলা হচ্ছে যথাক্রমে ১৪৯ ও ১৪৮। চানকিরি প্রদেশের একটি জেলায় গত ছয় মাসে ভোটারের সংখ্যা ৯৫ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে দেখা যাচ্ছে।

বিরোধীদলগুলো এই ভোটার তালিকার ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আইয়ি নামে একটি দলের নেতা হাসান সেইমান সোমবার টুইটবার্তায় বলেন, বিরোধীদল অভিযোগ তোলার পর ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার নাম বাদ দেবার খবর পেয়েছেন তিনি।

তবে একে পার্টির কর্মকর্তা রেচেপ ওজেল বলেন, ‘বিরোধীদল এমন একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছে যেন আমরাই এটা করেছি, কিন্তু আসলে আমরাই এর সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছি’। শহরগুলোর মেয়র ও রাজনৈতিক দলগুলোই এ কাজ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকার ব্যাপারে একে পার্টিই সবার আগে অভিযোগ তুলেছে।

ঢাকা টাইমস/২২জানুয়ারি/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত