১৮৬ শিশুর জীবন মূল্যহীন?

মো. শাখাওয়াত হোসেন, সিরাজদীখান
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:১৬

পাঁচ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও সেই ভবনেই চলছে পাঠদান। ১৮৬ জন শিশু ক্লাস করছে ভবনটির নিচে। ধসে পড়লে এসব শিশু কী হবে জবাব নেই কারও কাছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের নয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।

জানা গেছে, ১৯০৫ সালে নয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি স্থাপিত হয়। ১৯৯২-৯৩ সালে বিদ্যালয় ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। সিকি শতাব্দী পেরোনোর পর ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পাঁচ বছর আগে প্রকৌশলীরা জরিপ করে বিদ্যালয়ের ভবটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করে। কিন্তু উপায় না পেয়ে এমন ভবনটির ভেতরেই ক্লাস করতে হচ্ছে বিদ্যালয়টির ১৮৬ শিক্ষার্থীকে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা উঠে গেছে। ভবনটিও হয়ে পড়েছে স্যাঁতসেঁতে। অনেক স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা রড বেরিয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে ক্লাস চলাকালীন ঢালাইয়ের সুরকি খসে ঘটছে দুর্ঘটনা। মাঝেমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার দিনে সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষ পানিতে ভরে যায়। ভারী বর্ষণ হলে আরও আতঙ্ক বাড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। কারণ ভারী বর্ষণের ফলে ছাদ ভিজে নরম হওয়ায় যেকোনো সময় ধসে পড়ে তা প্রিয় সন্তানের প্রাণটি কেড়ে নিতে পারে। এজন্য সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় অভিভাবকদের।

অভিভাবকরা জানান, বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে থাকলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। তারপরও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তারা সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মো. মহিবুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভয়ে ভয়ে ক্লাস করতে হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৮৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুই শিফটে ক্লাস করতে হয়। এখানে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (পিইডিপি-২) আওতায় একটি ত্রাণশিবির রয়েছে। সেই শিবিরের দ্বিতীয়তলায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষ রয়েছে। আর নিচতলাটি দুর্গতদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও শিক্ষা অফিস থেকে অনুমোদন নিয়ে এখানে একটি কক্ষ তৈরি করে শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। আর জরাজীর্ণ ভবনটিতে দুই শিফটে অন্যান্য ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত এটি মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জানমালের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সিরাজদীখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিস জরিপের পর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। পরে ওই বিদ্যালয়সহ ১১৭টি বিদ্যালয় ভবনের এমন চিত্র মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়েব পেজে আপলোড করা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে অনুরোধ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ১১৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৮টি বিদ্যালয়ে ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও তালিকাতে নেই নয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পর্যায়ক্রমে আরও বরাদ্দ পাওয়া যাবে। তখন হয়তো এ বিদ্যালয়টিও বরাদ্দ পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত