রেইনট্রিতে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলায় সাক্ষ্য পিছিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:২৪

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় এক আসামির আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করেছেন ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে সাক্ষ্য চলমান থাকা এক ধর্ষিতার মা সাক্ষ্য দিতে তার মেয়েকে বারবার ট্রাইব্যুনালে এনে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। একে একে আসামিরা জামিন পাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে ভয়ে জীবন কাটাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বহুল আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ওই ধর্ষিতাকে আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিমের আইনজীবী এবিএম খায়রুল ইসলাম লিটনের জেরার দিন ধার্য ছিল। অনুপস্থিত ওই আইনজীবীকে প্রসিকিউটর ফোন দিয়ে জানতে পারেন, তিনি মামলা ছেড়ে দিয়েছেন। তখন আসামি নাঈম আশরাফ মৌখিকভাবে সময়ের আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস নতুন দিন ধার্য করেন।
পরে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও বিশেষ পিপি মো. লিয়াকত আলী এবং ভিকটিমের পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ আসামি সাফাতের জামিন বাতিলের আবেদনের বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে ওই আসামির আইনজীবী মো. হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা জামিন স্থায়ীর আবেদন জানান। বিচারক বলেন, তিনি দেখে আদেশ দিবেন।

শুনানিকালে জামিনে থাকা আসামি আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু সাদমান সাকিব, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসন ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। কারাগারে থাকা আসামি নাঈম আশরাফকেও হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে আসা ভিকটিম ও তার মা বের যাওয়ার সময় ঢাকা টাইমসকে বলেন, সাক্ষ্য দিতে এ নিয়ে পাঁচদিন তার মেয়েকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে এলেন। দুইদিন সাক্ষ্য হয়নি। এভাবে বার বার তারা ট্রাইব্যুনালে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এমনিতেই এক এক করে আসামিরা জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। হাতে জীবন নিয়ে আদালতে আসেন। আর কারাগারে থাকা আসামিও জামিন পেলে তাদের জীবন আরও সংশয়ে পড়বে। মেয়ে নতুন চাকরিতে ঢুকেছেন। তিনি নিজেও ঢাকার বাইরে চাকরি করেন। এভাবে মাসে ৩/৪ বার তাদের পক্ষে কিভাবে ট্রাইব্যুনালে আসা সম্ভব?       

গত বছরের ২৯ নভেম্বর সাফাত আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে বিভিন্ন সময় ধর্ষণের সহযোগী অপর আসামিরা জামিন পেয়েছেন।

২০১৭ সালের ১৩ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর ও অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরু করেন।

একই বছরের ৭ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অস্ত্রের মুখে ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

মামলায় বলা হয়, আসামিদের মধ্যে সাফাত ও নাঈম দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তারা ওই দুই ধর্ষিতা ছাত্রীর বন্ধু। ঘটনার দিন আসামি সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যান ওই দুই ছাত্রী। এরপর ওইদিন তাদের রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা আটকে রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান আসামিরা। আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ একাধিকবার তাদের ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের সময় আসামি সাফাত গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করান। পরে বাসায় দেহরক্ষী পাঠিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান। ধর্ষিতরা ভয় ও লোকলজ্জা এবং মানসিক অসুস্থতা কাটিয়ে উঠে পরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে মামলার সিদ্ধান্ত নেন।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/জেডআর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত