ভুয়া ডাক্তারের বেতন এক লাখ ১৫ হাজার

খাইরুল ইসলাম বাসিদ, পাবনা
| আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:২৩ | প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৯
ভুয়া ডাক্তার মাসুদ করিম

অন্যের নাম এবং বিএমডিসির নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ডাক্তার সেজে আট বছর করেছেন প্রতারণা। অবশেষে ধরা পড়ে গেল তার অপকৌশল, যদিও ধরা যায়নি তাকে। অভিযানের আগেই পালিয়ে গেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায়। মাসুদ করিম নামে পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের হেলথ কেয়ার লিমিটেড নামে একটি ক্লিনিকের ‘আবাসিক চিকিৎসক’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হলে গাঢাকা দেন কথিত ওই চিকিৎসক।

ঢাকার একটি ক্লিনিকে কর্মরত প্রকৃত চিকিৎসক মাসুদ করিম বৃহস্পতিবার পাবনা সিভিল সার্জন ও উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খাতুনের কাছে একটি অভিযোগ দেন। আর এরপর ধরা পড়ে সব।

মাসুদ করিম প্রায় আট বছর আগে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার ক্লিনিক লিমিটেডে ‘আলট্রাসনোলজিস্ট ও আবাসিক চিকিসক’ হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তার বেতন ঠিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ওই ক্লিনিকে কথিত চিকিৎসক মাসুদ করিম বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ৩৩৩৬০ ব্যবহার করে রোগী দেখার পাশাপাশি আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করতেন।

সম্প্রতি সাঈদ মাহবুব উল কাদির নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে মাসুদ করিমের প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন।  সেখানে তিনি ভুয়া ও প্রকৃত চিকিৎসকের ছবি প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

আসল ডাক্তার মাসুদ করিমঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকা ত্যাগ করেন কথিত চিকিৎসক মাসুদ করিম। অপরদিকে উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা হালিমা খাতুন অভিযুক্ত মাসুদ করিমের কাছে তার শিক্ষাজীবন ও বিএমডিসির সকল কাগজপত্র চাইলে ওই দিন রাতেই তিনি ভাঙ্গুড়া ত্যাগ করেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার খিলগাঁও এলাকার প্রকৃত চিকিৎসক মাসুদ করিম পাবনা সিভিল সার্জন তাহাজ্জেল হোসেনের কাছে জমা দেন।

প্রকৃত ডাক্তার মাসুদ করিম বলেন, ‘ঢাকার খিলগাঁওয়ে আমার নিজস্ব চেম্বারে আমি দীর্ঘদিন প্র্যাকটিস করি। অতি সম্প্রতি জেনেছি আমার নাম-পরিচয় ও বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একই নামে একজন ভুয়া চিকিৎসক সেজে ক্লিনিকে চাকরি করছেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় মৌখিক আমি জানিয়েছি এবং পাবনা সিভিল সার্জনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তার বিরুদ্ধে আমি দুটি মামলা করব।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে কথিত চিকিৎসক মাসুদ করিমের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ১৯৯২-৯৩ সেশনে ভর্তি হয়েছিলাম। আমি ঢাকায় এসেছি। বিএমডিসিতে গিয়েছিলাম। তারা আমাকে নুতুন করে কাগজপত্র ঠিক করে নিয়ে আসতে বলেছে। আমি মংমনসিংহ মেডিকেল কলেজে যাচ্ছি।’

মাসুদ জানান, তার পৈত্রিক বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায়। তবে রংপুরের শালবন এলাকায় স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তার বাবার নাম আবদুস সাকুর।

অভিযুক্ত মাসুদ করিমের বিষয়ে হেলথ কেয়ার লিমিটেড ক্লিনিকের পরিচালক আবদুল জব্বার জানান, ‘মাসুদ করিমকে মাসিক এক লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতনে আমাদের ক্লিনিকে চাকরি করেন। তিনি পাবনা জেলা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আজীবন সদস্য। পাবনার বিভিন্ন ক্লিনিকে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন। আমাদের কাছে তার সনদের ফটোকপি জমা দিয়েছিলেন। তবে এখন শুনছি তিনি ভুয়া চিকিৎসক।’

ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা হালিমা খাতুন বলেন, ‘ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের চিকিৎসক দাবিদার মাসুদ করিম মুল কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রকৃত মাসুদ করিম স্বশরীরে আমার কাছে এসে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি সিভিল সার্জন স্যার, ইউএনও ও বিএমডিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

পাবনার সিভিল সার্জন তাহাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খাতুনকে বলেছি।’

আপনাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অন্যের নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি কীভাবে আট বছর চিকিৎসা দিয়ে গেলেন?- এমন প্রশ্নে জবাব আসে, ‘আমাদের তো আর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা সম্ভব না কে কী করছে। আমরা তোর আর পুলিশ না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :