মানুষ ভোট দিয়েছে সংসদে কথা বলার জন্যই: মনসুর

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৭

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির সদস্যরা শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তাদের জোটের শরিক গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের সিদ্ধান্ত উল্টো। ধানের শীষ নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে বিজয়ী এই নেতা বলছেন, জনগণ তাকে ভোট দিয়েছে তাদের হয়ে কথা বলার জন্য এটা তার দায়িত্ব।

ঢাকাটাইমসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, অনেক জায়গায় অনিয়ম হলেও তার আসনে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণ তাকে ভোট দিয়েছে। তবে জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে তার অবস্থান কী, সেটা স্পষ্ট করেননি তিনি।

এই নেতা তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি নির্বাচিত হন এই প্যানেল থেকেই। এক এগারোর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংস্কারপন্থী তকমা লাগার পর আওয়ামী লীগে অবস্থান হারান। মনোনয়ন পাননি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে। এরপর রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। তবে কামাল হোসেন বিএনপিকে নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গড়ার পর তার সঙ্গে ভেড়েন। কঠোর সমালোচনা করেন তার আগের দল আওয়ামী লীগের।

তিনটি নির্বাচন নৌকা নিয়ে লড়ার পর এবার এই প্রতীকের বিরুদ্ধেই সুলতান মনসুর লড়েন ধানের শীষ নিয়ে। তবে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে। নিজের মোবাইল ফোনের ওয়েলকাম টিউনে সেট করেছেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।
গতকাল থেকে আলোচনা হচ্ছে আপনি শপথ নিবেন?

এটা তো কামাল হোসেন সাহেবই বলেছিলেন ইতিবাচক হবে। সময় যখন হবে তখন নেব। ৯০ দিন সময় আছে তো দেখেন।

আপনি তো বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ নিতে পারবেন?

আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মার্কায় নির্বাচন করেছি। ঐক্যফ্রন্টের মার্কা ছিল এটা। যেহেতু আমি ইনডিভিজ্যুয়াল। তবুও একটা পার্টির অ্যাফিলিয়েশন নিতে হয় বলে ওইটা থেকে নির্বাচন করেছি। আমি তো জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে, আমি তো কোন দলেরই কর্মকর্তা না।
আপনি শপথ নিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কিনা?

আমি এগুলো মনে করি না। এই মুহূর্তে এটা নিয়ে ভাবছিও না। আমার শরীরটা ভালো না। তাই কোনো আলোচনায় যাচ্ছি না। মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে।
অনেক জায়গায় অনিয়ম হয়েছে, এটা অন্য বিষয়। আমাকে ভোট দিয়েছে মানুষ। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে আমরা যারা বিজয়ী হয়ে এসেছি। মানুষতো আমাদের ভোট দিয়েছে তার কথা বলার জন্য। তাই মানুষের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।

জোটের অন্য বিজয়ীদেরকে কি শপথ নিতে বলবেন?

আমি এত ডিটেইলসে যাব না। আমি তো কোনো আলোচনায় (জোটের বৈঠক) ছিলাম না। আমি অসুস্থ, বাসায়। আপনি জোটের অন্যদের জিজ্ঞেস করেন। জনগণ শত প্রতিকূলতার অবস্থার মধ্যে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে, তাদের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য। আমি সেই ভূমিকা রাখব। সেক্ষেত্রে আমার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হবে, জনগণের পক্ষে হবে।

গণফোরামের আরেক বিজয়ী মোকাব্বির খানও কি শপথ নিচ্ছেন?

গণফোরামে আমি তো সক্রিয় না, এটা উনিই বলতে পারেন। উনাকে জিজ্ঞেস করেন। ওনারটা তো ইতিবাচক হবে বলে মনে করি।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টতো নির্বাচন প্রত্যাখান করেছিল...
সেটা ওনাদের ব্যাপার। যারা করেছেন (প্রত্যাখান) তারা জানেন।  

তাহলে আপনি নির্বাচন প্রত্যাখান করেননি, এটা কি বলতে পারি?

এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। শুধু ঘরে বসে কথা বললেই হবে না। মাঠে নাই কোনো খবর, ঘরে বসে ওই সমস্ত কথা বলে লাভ নাই।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর নিমন্ত্রণে যাবেন?

এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আমি জানি না। কামাল হোসেন সাহেব তো দেশের বাইরে। উনি আসলেই তো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত হবে। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :