তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনাররা অনেক মেধাবী: হেনা চৌধুরী

তানজিল আহমেদ খান জনি
| আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪০ | প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২২

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো ফ্যাশন শো ‘ফ্লেবারস অব সিজন ফ্যাশন রানওয়ে ২০১৯’। তৃতীয় বারের মত আয়োজিত এই আসরেরও কৌশলগত পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ফ্যাশন ডিজাইনার হেনা চৌধুরী। ফ্যাশনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঢাকাটাইমসের মুখোমুখী হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানজিল আহমেদ খান জনি।

ফ্যাশন রানওয়ের এই আয়োজনের নাম ‘ফ্লেবারস অব সিজন ফ্যাশন রানওয়ে’ কেন?

হেনা চৌধুরী: বাংলাদেশের ছয়টি ঋতুতে পরিবেশের যে রঙিন রূপ আমাদের নজর কাড়ে, সেই রঙগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের পোশাকে প্রাচ্য ও প্রাশ্চাতোর মিলন ঘটিয়ে একটু ফিউশন করার চিন্তা আমার বেশ কয়েক বছর ধরে ছিল। কারণ আমাদের মধ্যে একেকজন একেক ঋতু যেমনি পছন্দ করি, তেমনি একেক রঙ পছন্দ করি। আমি চেয়েছি সবকিছুর মিশেলে একটি ব্যতিক্রমধর্মী কিছু পোশাক ডিজাইন করে ঢাকার ফ্যাশনপ্রেমীদের উপহার দিতে। আর সেই থিম থেকেই এই নামকরণ।

ফ্লেবারস অব সিজন ফ্যাশন রানওয়ের এই আয়োজন প্রথম আসর থেকেই শুধুমাত্র তরুণদের নিয়েই কাজ করছেন। এখানে পরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনারদের অনুপস্থিতি কেন?

হেনা চৌধুরী: আমি শুরু থেকেই এক ঝাক নতুন মুখ নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি। কারণ তরুন ফ্যাশন ডিজাইনাররা কাঁচা মাটির মত, তাদেরকে খুব সুন্দরভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় এবং তরুণরা খুবই মেধাবী হয় বিধায় তারা খুব সহজেই সবকিছু নিজের আয়ত্বে নিতে সক্ষম। অন্যদিকে একটি পোশাক ডিজাইন করার সময় একজন ফ্যাশন ডিজাইনারকে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখী হতে হয়। সেই প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে পারলেই তিনি তার প্রজেক্টে সফলতা পান। এই প্রজেক্টের শুরু থেকেই আমি চেয়েছি নির্বাচিত তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনাররা তাদের ফ্যাশন ক্যারিয়ারের শুরুতেই হাতে কলমে ফ্যাশন ডিজাইনের ভেতরের রস উপভোগের পাশাপাশি এর ভিতরের নিষ্ঠুর প্রতিযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতার অভিজ্ঞতা অর্জন করুক।

আপনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনার কিংবা সেখানে অবস্থানরত শুধুমাত্র বাংলাদেশি তরুন ফ্যাশন ডিজাইনারদের নিয়ে এই প্রজেক্টা করতে পারতেন। সেক্ষেত্রে এই প্রজেক্টের জন্য বাংলাদেশকেই কেন নির্বাচন করলেন?

হেনা চৌধুরী: আমরা যারা বিদেশে থাকি তাদের প্রত্যেকের নিজের জন্মভুমি বাংলাদেশকে নিয়ে কাজ করার জন্য প্রাণে একটা টান থাকে। তবে ফ্যাশনের পশ্চিমা ট্রেন্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী ফ্যাশন ডিজাইনারদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে আমার বহু বছর ধরেই ছিল। আমরা এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজে বাস করি। আমাদেরকে ঢাকায় বসে প্যারিস, মিলান কিংবা নিউইর্য়কে কেমন ধরনের ফ্যাশন ট্রেন্ড চলছে সেই তথ্য অবশ্যই জানতে হবে। বিশ্ব ফ্যাশনের সঙ্গে যদি আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগেও সেকেলে চিন্তায় আটকে থাকি তাহলে আমরা অনেক বেশি পিছিয়ে পড়বো। আমি যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক যুগ ধরে আছি, বিভিন্ন ফ্যাশন প্রজেক্টে নিয়মিত কাজ করেছি, এখনও করছি তাই আমি চেয়েছি এমন একটা আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে এবং সারা বিশ্বে ফ্যাশন ডিজাইনের ক্ষেত্রে নতুন ট্রেন্ড নির্মাণে কাজ করার জন্য তাদেরকে উৎসাহী করতে। তবে কাজ করতে গিয়ে যেটা উপলদ্ধি করলাম তা হলো-বাংলাদেশের তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনারা অনেক বেশি মেধাবী, তাদের জন্য শুধু সঠিক দিক নির্দেশনা প্রয়োজন।

এই প্রজেক্টের মডেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কেমন ছিলো?

হেনা চৌধুরী: প্রতিবন্ধকতা তো অনেক ধরনের ছিল। সেগুলো বলতে চাই না। আমি যেহেতু চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি, তাই প্রতিবন্ধকতাগুলো আমার কাজের স্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্বের বিখ্যাত সব ফ্যাশন শোতে পোশাকের ডিজাইনের মাধ্যমে কোন একটি জাতি বা রাষ্ট্রের সংস্কৃতি উপস্থাপিত হয়। যা সেই দেশের পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক ভুমিকা ফেলে। কিন্তু বাংলাদেশ কেন এখনও কোন একটি নির্দিষ্ট পোশাক নিয়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজের আধিপত্য তৈরি করতে পারছে না?

হেনা চৌধুরী: বাংলাদেশে ফ্যাশন ডিজাইনারের ধারনা এখানে খুব বেশি সময় ধরে আসেনি। প্রায় এক যুগ হল বলা যায়। এই সময়টা খুবই অল্প। এর আগে আমরা আমাদের কুটির শিল্প, জামদানি, বেনারসি, তাঁত, সিল্ক ইত্যাদি নিয়েই ছিলাম। কিন্তু যখন বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের প্রসার হলো তখন আমাদের দেশে পশ্চিমা ডিজাইনের কাপড় দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি নিজের একটা স্থান দখল করলো।

অন্যদিকে ফ্যাশন ডিজাইনের উপর যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে তারা শিক্ষার্থীদের গার্মেন্টসের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য প্রশিক্ষিত করছেন। সেখানে তারা বিদেশি ক্রেতাদের নির্দেশনামত একটি পন্যের মান উন্নয়ন করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রির জন্য প্রস্তত করেন। অথচ আমরা যারা ফ্যাশন ডিজাইনার তারা নিজেদের মেধা ও সৃজনশীল চিন্তা দিয়ে একটি ইউনিক পন্যের স্কেচ করি। তারপরে আমাদের মাথায় রাখতে হয় আমরা কোন পরিবেশের কোন ক্রেতার জন্য পন্যটি তৈরি করছি। সেই কারণে বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনারদের মনের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব কাজ করছে, তা হলো তারা কি গার্মেন্টস শিল্পের জন্য কাজ করছেন নাকি তারা ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তবে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফ্যাশনের বাজারে নিজের একটি ভালো অবস্থান অর্জন করবে।

এই প্রজেক্ট নিয়ে ভবিষৎ পরিকল্পনা কি?

হেনা চৌধুরী: সবার আগে চাই সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে এমন ফ্যাশন ডিজাইনার তৈরি করা। আর লন্ডন ফ্যাশন উইক, প্যারিস ফ্যাশন উইক, মিলান ফ্যাশন উইক, টোকিও ফ্যাশন উইক কিংবা নিউইর্য়ক ফ্যাশন উইকের মত ফ্লেবারস অব সিজন ফ্যাশন রানওয়ের প্রজেক্টাকে নিয়ে যেতে চাই। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও সারা বিশ্বের তরুণ ও মেধাবী ফ্যাশন ডিজাইনারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে এসে এই প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করবেন।

তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনদের তৈরির নেপথ্যে তো কাজ করছেন। এবারের আসরে আপনার নিজেরও একটি ফ্যাশন কিউ ছিল। কবে নাগাদ ফ্যাশন রানওয়েতে আপনার সিগনেচার কালেকশনগুলো ঢাকার ফ্যাশনপ্রেমীরা উপভোগ করতে পারবেন?

হেনা চৌধুরী: সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বছরেই হয়ত আমার সিগনেচার কালেকশনগুলো ঢাকার ফ্যাশনপ্রেমীরা দেখতে পারবেন।

আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

হেনা চৌধুরী: ঢাকাটাইমস এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/৩০জানুয়ারি/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :