বাগেরহাটের এক কেন্দ্রে নৈর্ব্যক্তিক ২০১৮ সালের প্রশ্নে!

বাগেরহাট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৩

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রথম দিনে বাগেরহাটের একটি কেন্দ্রে ২০১৮ সালের সিলেবাসে প্রশ্নপত্রে কিছু শিক্ষার্থীর নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল।

বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার শুরুতে বিভিন্ন কক্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।

বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শকদের নজরে দেওয়া হলেও তারা তা পাত্তা দেননি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তবে এ জন্য পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে তাদের আশ্বাস দিয়েছেন পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা।

পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে বহুনির্বাচনী পরীক্ষা দিয়েছেন বাগেরহাট বহুমখী কলেজিয়েট স্কুলের (নিয়মিত) পরীক্ষার্থী ইমরান খলিফা জয়। জয়ের ভাষ্য, ‘বালিকা বিদ্যালয়ের ৩ নং ভবনের ২১০ নম্বর কক্ষে আমার সিট পড়ে। সেখানে আমার মতো আরো কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে ২০১৮ সালের সিলেবাসের বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।’

‘প্রথমে আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরীক্ষা শুরুর ৬-৭ মিনিট পর খেয়াল করি প্রশ্নের উপরে লেখা ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী। বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শককে জানালে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, “প্রশ্নের সমস্যা নিয়ে কোনো কথা বলবা না।” তিনি আমাদের প্রশ্নের ভুল নিয়ে কোনো কথাই শুনতে চাননি। পরে আমার প্রশ্নপত্রের ১৭ নং নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে দেখি “বৃষ্টি” কবিতা থেকে প্রশ্ন এসেছে। কিন্তু আমাদের বইতে ওই কবিতাই নেই। আমরা বললেও প্রশ্ন আর পাল্টে দেওয়া হয়নি।’

ওই কেন্দ্রের ২০৯ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী শাওন শেখ জানায়, তাদের কক্ষেও চার-পাঁচজন শিক্ষার্থীর এমন সমস্যা হয়। তারা প্রায় ১০ মিনিট পর পুরনো প্রশ্ন বুঝতে পেরে শিক্ষকদের জানায়। কিন্তু প্রশ্নপত্র বদলে দেওয়া হয়নি। তারা নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা ২০১৮ সালের প্রশ্নে, সৃজনশীল (লিখিত) পরীক্ষা ২০১৯ সালের প্রশ্নে দিয়েছে।’

পরীক্ষার্থী ইমরানের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি এসে ছেলে কান্নাকাটি করছে। শিক্ষকদের বলা হলেও তারা প্রশ্নপত্র বদলে দেননি। স্যাররা বলেছেন, “সমস্যা নেই, বোর্ডে জানানো হয়েছে।” এখন ওদের কী হবে বুঝতে পারছি না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ওই কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব  দীপক রঞ্জন বিশ্বাস এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা বোর্ডকে অবহিত করেছি। ৩০-৩১ জন পরীক্ষার্থীর এমন সমস্যা হয়েছে। তবে এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বোর্ডের নির্দেশে এই খাতগুলো পৃথকভাবে পাঠানো হয়েছে।’

প্রশ্নপত্র নিয়ে সমস্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বইতে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে সেই অনুযায়ী প্রশ্নপত্র বণ্টন করি। কিন্তু হঠাৎ করে আগের রাতে ওই নির্দেশনায় পরিবর্তন আসে, যা খেয়াল করতে পারিনি।’

এ বিষয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অভিভাবকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। পরীক্ষার বিষয়ে বোর্ড থেকে সরাসরি কেন্দ্রসচিবদের সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া আছে। ৩০-৩১ পরীক্ষার্থীর এমন সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আগামীকাল (রবিবার) কেন্দ্রসচিব আমাদের জানাবেন।’

(ঢাকাটাইমস/২ফেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :