নিখোঁজের চার মাস পর ক্ষতবিক্ষত কিশোরী উদ্ধার

নোয়াখালী প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৩

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ছানন্দী ইউনিয়নের চরনোঙ্গলিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজের প্রায় চার মাস পর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় এক কিশোরীকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহ সুমন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূলহোতারা এখনো পলাতক রয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা শহর মাইজদী থেকে সুমনকে আটক করা হয়।

এর আগে ওই কিশোরীকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করে বিকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। উদ্ধার কিশোরী চরনোঙ্গলিয়া গ্রামের এনায়েত উল্যার মেয়ে।

ভিকটিমের মা সামছুন নাহার অভিযোগ করেন, প্রায় চার মাস আগে তিনি বাড়ির বাহিরে থাকার সুযোগে তাদের প্রতিবেশী জামাল উদ্দিন প্রকাশ জামাইল্লা চোরার মেয়ে রিনা আক্তার বাড়িতে এসে নেশা দ্রব্য দিয়ে মেয়েটিকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে বাড়িতে এসে মেয়েকে না দেখতে পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। রিনা মেয়েকে নিয়ে গেছে বলে তার বড় ছেলের শ্বাশুড়ি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করলে রিনা অস্বীকার করে।

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, নিখোঁজের কয়েক দিন পর একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে তাকে কল দিয়ে বলে ‘মা আমি...’ একথা বলার পরই কল কেটে যায়। এরপর থেকে তারা আর কোন সন্ধান পায়নি। রবিবার গভীর রাতে আবার একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে তার কাছে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কল দিয়ে মেয়ের বিষয়টি অবগত করলে রাতে তারা চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়েটি বলেন, গত চার মাস রিনার মামি আলেয়া আক্তার তার মাইজদীর বাসায় রেখে প্রচণ্ড মারধর করা হতো তাকে। কখনো ব্লেট দিয়ে পুরো শরীরে ক্ষত করা হয়েছে, কখনো গরম পানি ঢেলে দেয়া হয়েছে, কখনো শরীরে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ রবিবার রাতে একটি গাড়ি করে তাকে কালুরঘাট সেতুর কাছে নিয়ে লাথি দিয়ে ফেলে আসে আর বলে তুই মর।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম জানান, ভিকটিম ও পরিবারের তথ্যমতে তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। তার শরীরের প্রতিটি অংশে ক্ষত রয়েছে। তাই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভিকটিমকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিমকে দেখে এসেছেন। প্রাথমিক অভিযোগেরভিত্তিতে সুমন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/৪ফেব্রুয়ারি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :