মামলায় গেলেন না ধানের শীষের পরাজিতরা

বোরহান উদ্দিন
 | প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:২১
ফাইল ছবি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জনসভা করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের কারচুপিসহ অভিযোগ এনে আসনভিত্তিক মামলা করার ঘোষণা থাকলেও ধানের শীষ নিয়ে পরাজিত প্রার্থীরা আইনি পথে গেলেন না।

গত ৮ জানুয়ারি এসব অভিযোগ তুলে মামলা করার কথা ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুয়ারি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করাও চলছিল। প্রার্থীরা আসনওয়ারী এই মামলা করবেন জানালেও পরে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, নির্বাচনী ফলাফলের প্রজ্ঞাপন জারির ৩০ দিনের মধ্যে পরাজিত প্রার্থীর মামলা করার সুযোগ আছে। আর মামলা করতে প্রতিটি আসনের প্রার্থীদের কারচুপির তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করে কেন্দ্রে পাঠাতে বলা হয়।

গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করেছে বিএনপি। ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টের সম্মিলিত প্রার্থীরা ধানের শীষ নিয়ে ভোট পেয়েছে মোট সাড়ে ১৩ শতাংশ। আসন পেয়েছে আটটি।

তবে এই নির্বাচনকে কারচুপি আখ্যা দিয়ে জয়ী প্রার্থীরা শপথ নেবেন না বলে জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। আর ওই নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোটের দাবিতে রাজপথের পাশাপাশি আদালতে লড়াইয়ের ঘোষণাও ছিল জোটের।

তবে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শরিক দলগুলোর নেতারা এখন মনে করছেন মামলা করে কোনো লাভ হবে না। আর আদালতে মামলা খারিজ হয়ে গেছে সরকারের বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির যে অভিযোগ তারা আনছেন, সেগুলো আইনগতভাবে নাকচ হবে, আর বৈধতা পাবে সরকার। এই সুযোগ তারা দিতে চান না।

অবশ্য অন্তত একজন পরাজিত প্রার্থী মামলা করেছেন। তিনি হলেন ঢাকা-৬ আসনের সুব্রত চৌধুরী। ঢাকা টাইমসকে ধানের শীষ নিয়ে লড়া গণফোরামের নেতা বলেন, আরও কেউ কেউ মামলা করলেও করতে পারেন। তবে এই সংখ্যাটি খুব বেশি হবে না।

২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ বলেন, ‘নি¤œ ও উচ্চ আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচন নিয়ে মামলায় পাঁচ বছরেও রায় হয় না। অথচ আমরা যদি মামলা করি তাহলে তড়িঘড়ি করে রায় দেওয়া হবে। এতে সরকার আইনিভাবে বৈধতা পাবে। তাই আমরা মামলা করব না।’

একই দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহদাত হোসেন সেলিম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত মামলা করব না। কারণ, এতে কোনো লাভ নেই। তবে এ নিয়ে বিএনপি বা জোটের সঙ্গে কথা হয়নি। তারা কি করবে সেটা আমাদের জানা নেই।’

আইন অনুযায়ী, গেজেটের এক মাসের মধ্যে মামলা হলে ট্রাইব্যুনাল ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। আর এই রায়ে সন্তুষ্ট না হলে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। আর এই আপিল চার মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার জানা মতে, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে। তবে আদালত চাইলে এই সময় বাড়াতে পারে।’

বিএনপির নেতারা জানান, দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর থেকে মামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন প্রার্থীরা। নিজ নিজ আসনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলার তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভোটের আগে ও পরের অনিয়মের তথ্য কেন্দ্রে পাঠান। মামলা করার জন্য নিজেদের কাছেও সংরক্ষণে রাখেন।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুব্রত চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মামলা করার ব্যাপারে তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। কারণ বিচারহীনতার জায়গায় প্রতিকার পাওয়া যাবে এমন বিশ্বাস নেই কারও। সবার ভাষ্য, কার কাছে তারা বিচার চাইবেন। কারণ নির্বাচনে তো রাষ্ট্রের সব শক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। তাই মামলা করে কী হবে?’

তবে নিজে মামলা করেছেন জানিয়ে এই নেতা বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মামলার কিন্তু এখন বাস্তবতা দেখে অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে এরপরও অনেকে মামলা করবেন।’

এই নেতার দাবি, বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের পর ৪৫ দিন পর্যন্ত মামলা করার সুযোগ আছে। আর এই বিবেচনায় আরও দুই সপ্তাহ সময় আছে।

বরগুনা-২ আসন থেকে নির্বাচন করা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন মামলা করবেন না বলে জানিয়েছেন। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমরা মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু রায় সরকারের পক্ষে গেলে তখন তো নির্বাচনকে মেনে নেওয়া হবে। এতে তো কোনো ফল হবে না। তাই মামলা করব না। তবে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত পলিসি মেকাররা নেবেন।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতা গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মামলা করা নিয়ে অনেকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। কারণ কোনো ফল পাবেন না। এর বাইরেও সব থেকে বড় কারণ নির্বাচনের কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে কাগজপত্র চাইলে বলে আমাদের আর বিপদে ফেলবেন না।’

মামলা করা বা না করার বিষয়ে এখন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ পরামর্শ দিচ্ছেন জানিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘অনেকে অনেক পরামর্শ দিচ্ছেন। কেউ বলছেন কোর্টে গিয়ে লাভ নেই, রাস্তায় নামুন। কেউ বলছেন, ন্যায়বিচার না পেলেও মামলা করুন। দেখি আমরা কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :