কর্ণফুলী উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত

ভাঙা হলো গুদাম-বাজারসহ অবৈধ স্থাপনা

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২০ | প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:০৬

দেশের অর্থনীতির প্রাণ প্রবাহ হিসেবে খ্যাত কর্ণফুলী নদীর তীর দখল মুক্ত করতে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে সদরঘাট থানা এলাকার কর্ণফুলী ঘাট এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে গুড়িয়ে দেয়া হয় গুদাম ঘর ও বাজারের মতো অনেক ইট সিমেন্টের স্থাপনা।

পুলিশ, র‌্যাব, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন।

দ্বিতীয় দিনের অভিযানের নেতৃত্বে দেন পতেঙ্গা রেঞ্জের সহকারী ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) ও উচ্ছেদ কার্যক্রমের সমন্বয়ক তাহমিলুর রহমান এবং জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুর রহমান।

চাক্তাই থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত কর্ণফুলীর তীরে গড়ে ওঠা প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানকে তিন জোনে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা ও র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজের নেতৃত্বে দুই শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটকে সহযোগিতা করছেন।

কাঁচা-পাকা শত শত অবৈধ স্থাপনা ভাঙার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) বুলডোজার, স্ক্যাভেটর, পে-লোডার, ট্রাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

নোবেল চাকমা জানান, ‘সদরঘাট থানার এলাকার কর্ণফুলী ঘাট এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন বা অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।’

এর আগে অভিযানের প্রথম দিন সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১ কিলোমিটার এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় ৮০টি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ৪ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়। এসব জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে। এর পাশাপাশি পিলার ও সর্তকতামূলক সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়।

কর্ণফুলীর নদীর তীর দখল করে প্রভাবশালীদের গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করায় ইতিমধ্যে হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. ইলিয়াস হোসেন। তবে কোনো ধরনের হুমকিতে মাথানত না করে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
সোমবার সকালে সদরঘাট লাইটারেজ জেটি ঘাট এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর সময় ওই কথা বলেন ডিসি।

২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ কর্ণফুলীর দুই তীরে গড়ে ওঠা স্থাপনা সরাতে ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এরপর আরও কয়েকবার অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেও সাড়া মেলেনি। ফলে গত দুই বছরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানও শুরু করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

সর্বশেষ অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে আ.লীগের চলতি সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের আশ্বাসে সোমবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

ঢাকাটাইমস/৫ফেব্রুয়ারি/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :