দ্বিতীয়বারের মতো পিপিএম পেলেন ডিআইজি হাবিব

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৮

টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) পুরস্কার পেলেন ডিআইজি হাবিবুর রহমান। কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে তিনবার তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পেয়েছেন।

সোমবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পুলিশ কর্মকর্তাকে পদক পরিয়ে দেন।

সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য পুলিশ সপ্তাহে পদক দেওয়া হয় যা বিপিএম এবং পিপিএম নামে পরিচিত। প্রথমটি বাংলাদেশ পুলিশ পদক এবং পরেরটি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক।

এবার এই দুই পদক পেয়েছেন রেকর্ডসংখ্যক, ৩৪৯ জন। গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণ ছাড়াও ‘সুষ্ঠুভাবে’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করায় বেড়েছে পদকের সংখ্যা।

ডিআইজি হাবিব পুলিশের অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিসিপ্লিন হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত আছেন। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং অনন্যসাধারণ পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিপালন করছেন।

তিনি বাংলাদেশ পুলিশের প্রশাসন, পার্সোনেল ম্যানেজম্যান্ট, ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স শাখার কার্যক্রম তদারকি করেন। দেশের  দুই লক্ষাধিক পুলিশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছেন। পুলিশের ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ই-ফাইলিং, পুলিশ সদস্যদের যাবতীয় তথ্যাবলি পিআইএমএসের মাধ্যমে সংরক্ষণসহ পুলিশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স শাখার তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে দেশে সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। এছাড়া গার্মেন্টস সেক্টরসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের নানা বিধি ইস্যুভিত্তিক পর্যালোচনা করে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের ইউনিট সমূহের সাথে স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স শাখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেন।

তিনি তার উদ্ভাবনী কর্মস্পৃহা বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পদ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন পদে পদায়নের  ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। বিগত এক বছর পুলিশের অতিরিক্ত আইজি পদে ৮, ডিআইজি পদে ১৭, অতিরিক্ত ডিআইজি পদে ৪, পুলিশ সুপার পদে ২৩৫, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ৪২৩ এবং সহকারী পুলিশ সুপার পদে ৭৯ জনসহ অনান্য পদ সৃজনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যাতে পুলিশের কাজে অধিকতর শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা এসেছে।

পেশাগত কাজের বাইরে তিনি একজন খ্যাতিমান ক্রীড়া সংগঠক ও চেঞ্জ মেকার। তিনি বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন সেক্রেটারি এবং এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ কাবাডির হারানো গৌরব পুনরায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এছাড়া তিনি বেদে সম্প্রদায় ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছেন। এতে এসব সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ এবং তার আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

হাবিবুর রহমান ১৯৬৭ সালে গোপালগঞ্জ জেলার চন্দ্র দিঘলীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চন্দ্রদিঘলীয়া মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষনা ইনস্টিটিউট থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে স্নাতোকত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের একজন ডিআইজি হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার এ দায়িত্ব পালন করছেন।

(ঢাকাটাইমস/০৬ফেব্রুয়ারি/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :