‘দর্জিবাড়িকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই’

সায়রা সামসিয়া
 | প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪০

দেশি পোশাকের ফ্যাশন জগতে নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে ‘দর্জিবাড়ি’র। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরুর পর অল্প সময়েই উন্নতমানের ডিজাইন, স্টাইল ও কাপড়ের জন্য সবার পছন্দের তালিকায় চলে এসেছে ব্র্যান্ডটি। দর্জিবাড়ির বর্তমান অবস্থা এবং দেশি পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমসাময়িক বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন এর কর্ণধার মো. ফজলুর রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সায়রা সামসিয়া।

যাত্রাকালটা কেমন ছিল?
ফজলুর রহমান: যাত্রাকাল সব প্রতিষ্ঠানেরই কষ্ট ও সংগ্রামের থাকে। আমরাও এর বাইরে যেতে পারিনি। খুব ক্ষুদ্র পরিসরে ১৯৯১ সালে ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা থেকে ২০০৩ সালে আজকের এই দর্জিবাড়ির সূত্রপাত ঘটে। কাপড়ের সেই ব্যবসার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং সৃজনশীলতার সমন্বয় ঘটিয়ে আজ এত দূরে আসা। আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর এই ১৬ বছরে অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছে দর্জিবাড়ি। 

বর্তমান চিত্র কী?
ফজলুর রহমান:
 এটির উত্তর আমার চেয়ে আমাদের ক্রেতারা ভালো দিতে পারবেন। তাদের কাছে দর্জিবাড়ির পোশাক কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, তার মধ্যেই এর উত্তর রয়েছে। যদিও দর্জিবাড়ি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে অবস্থান করছে, কম সময়ে এই ব্র্যান্ডের গুণগত মান অনেক বেড়েছে, এটা আমি নিশ্চিত বলতে পারি। সারা দেশে আমাদের মোট ৪০টি আউটলেট আছে। যেসব জেলায় আমরা এখনো পৌঁছাতে পারিনি, সেসব জেলায় আরও ৩৮টি নতুন শোরুম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী রোজার ঈদের আগেই চারটির উদ্বোধন হবে।

দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
ফজলুর রহমান: বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নেই, তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আছে। বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আরও হওয়া দরকার। বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে গুণগত ও শৈল্পিক মানের বিবেচনায় আমাদের আরও দক্ষ হতে হবে। এর জন্য দরকার পর্যাপ্ত দক্ষ জনশক্তি।

পোশাকশিল্পের আরও উন্নতিতে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে?
ফজলুর রহমান: প্রথমত নীতিমালা। যে নীতিমালাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন এবং সময়োপযোগী আরও বেশ কিছু নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। শুধু সরকারের নয়, আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। বেসরকারি পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের মধ্যে একতা বজায় রাখতে পারে এবং জোটগতভাবে সমস্যাগুলো সরকারকে অবহিত করে সমাধানকল্পে সম্পৃক্ত করতে পারে, তাহলে এই ইন্ডাস্ট্রি অনেক এগিয়ে যাবে। 

বিদেশিগুলোর পাশাপাশি দেশি ব্র্যান্ডগুলোরও কদর-জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। এর পেছনের গল্পটা কী?
ফজলুর রহমান: এর পেছনের গল্পটাকে আমি তিনটি শব্দে ব্যক্ত করব- গুণগত মান, শৈল্পিক মান ও সৌন্দর্যবোধ। আমাদের ভোক্তাশ্রেণির গুণগত ও শৈল্পিক মানের চাহিদা আমরা এখন পূরণ করতে পারছি বলে আমি বিশ্বাস করি। তা ছাড়া একই মূল্যে বা তার চেয়ে কম মূল্যে এখন আমাদের দেশের ক্রেতারা বিদেশি পোশাকের মতোই দেশি পোশাকটি পরে সৌন্দর্য অনুভবের পাশাপাশি গর্ববোধও করছেন। এই জায়গাটায় পৌঁছানোর কারণেই দেশি ফ্যাশন হাউজগুলো ব্র্যান্ডের ইমেজ পেয়েছে। 

ক্যারিয়ার গঠনে এই ক্ষেত্রটি কেমন? 
ফজলুর রহমান: ক্যারিয়ার গঠনে এটি একটি চমৎকার ক্ষেত্র, উপভোগ্যও বটে। প্রায় ২৪ ঘণ্টাই আমাদের পোশাকশিল্পের সঙ্গে থাকতে হয়। তাই ক্যারিয়ার গঠনে এটি বহুমাত্রিক উন্নতি ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। 

নতুনদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
ফজলুর রহমান: নতুনদের উদ্দেশে এটাই বলব, পোশাকশিল্প সম্পূর্ণ নিজস্ব শিল্পমানে দাঁড়িয়ে আছে। তাই এটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। যারা এই পেশায় আসতে চান, আমি তাদের স্বাগত জানাই। তারা যেন এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করে আসেন এবং দক্ষতার সঙ্গে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগান। পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। 

আমাদের দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোর পোশাক বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা আছে কি?
ফজলুর রহমান: সম্ভাবনা আছে, তবে উদ্যোগ কম। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সেই স্বপ্নটা দেখতে শুরু করেছি। সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

এ নিয়ে আপনাদের উদ্যোগ কী?
ফজলুর রহমান: এই স্বপ্নটা দর্জিবাড়িও লালন করে। তবে আপাতত আমাদের উদ্যোগ দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় ছড়িয়ে পড়া। দেশের গ-ি পার হয়েই বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেব। 

ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান দর্জিবাড়িকে?
ফজলুর রহমান: দর্জিবাড়ি নিয়ে আমার চাওয়া অনেক। সবার আগে এটিকে লোকাল ব্র্যান্ড থেকে গ্লোবাল ব্র্যান্ডে উন্নীত করতে চাই।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :