নাম পাল্টাচ্ছে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:১১ | প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৩

চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর’ করার প্রস্থাব এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও এই প্রস্থাবে নীতিগত সমর্থন পাওয়া গেছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় এই জাদুঘর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে গড়ে তোলা হয়েছিল। এক সময়কালের সার্কিট হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত এই ভবনেই রাষ্ট্রপতি জিয়া খুন হয়েছিলেন।

‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে’ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রস্তাব এনেছেন চট্টগ্রামের সন্তান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন নওফেল।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের সাংসদ নওফেলের এই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন মন্ত্রীসভার প্রায় সব সদস্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও এ ব্যাপারে নীতিগত সমর্থন এসেছে বলে জানা গেছে।

নওফেলের প্রস্তাবটিতে সমর্থন জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ‘ভবনটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। এটি বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত। একসময় সার্কিট হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে পাকিস্তানি সেনারা ওই ভবনে রেখে নির্যাতন করেছিল। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয়।’

‘জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন এই সার্কিট হাউজে এসে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯১ সালে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটিকে আকস্মিকভাবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করেন, যা চট্টগ্রামের আপামর মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নেননি। সেখানে জিয়াউর রহমানের কোনো স্মৃতিও নেই। শুধু ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে যে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রচার হয়েছিল, সেটি এনে সেখানে রাখা হয়েছে। তাহলে জিয়াউর রহমানের নামে কেন জাদুঘর হবে?’

নওফেল বলেন, দর্শনীয় স্থান হলেও জিয়ার নামে স্থাপনা হওয়ায় সেখানে চট্টগ্রামের মানুষ যান না। অথচ এটিকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করে একটি সার্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তর করা হলে এটি দেশের সম্পদে পরিণত হবে।’
এজন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে একটি প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধও করেন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই করে নেওয়া তরুণ রাজনীতিক নওফেল।

পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রস্তাব আমি মন্ত্রীসভায় তুলে ধরেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নীতিগতভাবে সমর্থন দিয়েছেন। আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে চিঠি দেব, যাতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং কাজটি দ্রুত শুরু করা হয়।’

প্রসঙ্গত, ১৯১৩ সালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কাজির দেউড়ি এলাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকরা দৃষ্টিনন্দন একটি ভবন নির্মাণ করে। পরে এটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য ব্যবহৃত হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সফরে এসে সার্কিট হাউজের চার নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ভোরের দিকে এক সামরিক অভ্যুত্থানে সেখানেই তিনি নিহত হন।

১৯৯১ সালে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ওই ভবনকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে সেখানে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের নমুনা, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং স্বাধীনতা ঘোষণার ট্রান্সমিটারটি সংরক্ষিত আছে।

ঢাকাটাইমস/১১ফেব্রুয়ারি/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :