দুর্নীতি মামলায় মওদুদের বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্মকর্তার সাক্ষ্য

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৫
ফাইল ছবি

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে এক ব্যাংক কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছে আদালত।

সোমবার ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ শেখ গোলাম মাহবুব বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক বনানী শাখার ম্যানেজার সৈয়দ সালাউদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন।

এদিন এ সাক্ষীর জবানবন্দির পর আসামিপক্ষে জেরা শুরু হয়। পরে জেরা অব্যাহত থাকাবস্থায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। এর আগে মামলাটিতে আরও তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

মামলাটিতে একই আদালতের তৎকালীন বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস ২০১৭ সালের ২১ জুন বিএনপির এ নেতার অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জগঠন করেন।

২০০৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুদক এ মামলা দায়ের করে। সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৫ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে এ মামলা বাতিলের জন্য মওদুদ আহমেদ উচ্চ আদালতে আবেদন করায় দীর্ঘদিন নি¤œ আদালতে বিচার কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

মামলার চার্জশিট অনুযায়ী এ আসামির বিরুদ্ধে চার কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও নয় কোটি চার লাখ ৩৭ হাজার ২৩৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। দুদকের তদন্ত অনুয়ায়ী মওদুদ আহমদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এর মধ্যে নয় কোটি চার লাখ ৩৭ হাজার ২৩৩ টাকার সম্পদের সঙ্গে তার বৈধ আয়ের কোনো সঙ্গতি নেই। এই সম্পদ অবৈধ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত। এছাড়া দুদকে দাখিল করা সম্পদের হিসাবে তিনি চার কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। দুদকের নোটিশের জবাবে তিনি প্রায় ১৩ কোটি টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছিলেন।

মওদুদ আহমদের সম্পদের মধ্যে ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখায় ৮০ লাখ টাকা, আইএফআইসি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় নিজের স্বাক্ষরে ১৯টি বেনামে অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় আটটি যৌথ হিসাবে ৬৬ লাখ টাকার এফডিআর আছে। এছাড়া স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক ও আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের নওয়াবপুর শাখাতে তার নামে অর্থ জমা আছে। তার নামে আমেরিকা ও লন্ডনে দুটি বাড়ি আছে। ২০০০ সালের আগে-পরে তিনি এই বাড়ি দুটি নিজের নামে কিনলেও পরবর্তী সময়ে মেয়ের নামে দিয়ে দেন। বাড়ি দুটির মূল্য এক লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মুদ্রা। টাস্কফোর্স ও দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মওদুদ এই বাড়ির কথা স্বীকার করেন। গুলশান ২ নম্বরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ২৬শ ও তিন হাজার বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট, ১০ কাঠা জমিতে পাঁচ তলা বাড়ি (৮০ দশকে কেনা) আছে। গ্রামের বাড়িতে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বিশাল বাংলো আছে। সাভারে ইপিজেডের উল্টোদিকে তিন একর ও টঙ্গীর পাগারে এক একর জমি আছে।

(ঢাকাটাইমস/১১ফেব্রুয়ারি/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত