নদীতে অবাধে বালু উত্তোলন, ভাঙন ঝুঁকিতে জনপদ

এনাম আহমেদ, বগুড়া প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০০

বগুড়ার নাগর নদীর কয়েকটি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের চাঁপাপুর দিয়ে প্রবাহিত অংশ থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বালু। এছাড়া পাড় কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাটি। এর ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রাম। ভাঙনের কবলে পড়েছে অনেক ফসলি জমি।

করতোয়ার শাখা নদী নাগর বগুড়া জেলার অন্যতম নদী। নদীটি খুবই সরু এবং আঁকাবাঁকা। বগুড়ার শিবগঞ্জ, শেরপুর, আদমদীঘি, কাহালু ও নন্দীগ্রাম থানা ছাড়াও জয়পুরহাট জেলার কালাই ও ক্ষেতলাল পর্যন্ত নদীটি প্রবাহিত। নদীটিকে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানা এবং জেলা থানা সীমানা নির্ণয়কারী নদী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এক সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসরে থাকাকালীন এই নদী দিয়েই নৌকাযোগে যাতায়াত করতেন।

বেশ কিছুদিন ধরে নাগর নদী থেকে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামসহ ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সেই কারণে দিন দিন নাগর নদটি তার আপন সত্তা হারিয়ে এখন রাক্ষসী রূপ ধারণ করেছে।

জানা গেছে, আদমদীঘির কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়নে বালু উত্তোলনকারীরা নাগর নদীর কুশাবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন হরিয়ানমারা পয়েন্ট, ফুলবাগিচা, চাঁপাপুরের পালনকুড়ি-বাঘাদহসহ দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০ থেকে ১২ পয়েন্ট থেকে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে মটি ও বালু উত্তোলন করছে। ইটভাটায় এসব মাটি বিক্রি করে তারা কোটিপতি বুনে যাচ্ছেন। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দেদারচ্ছে কাজটি হলেও প্রশাসন নজর দিচ্ছে না অভিযোগ করেন অনেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলে পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। প্রায় প্রতিবারই বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হয়। আর এ কাজে সরকারকে প্রতিনিয়তই রাজস্ব কোষাগারের কোটি কোটি টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে প্রতিবারই এভাবে লোকসান গুণতে হবে। এছাড়া হুমকির মুখে পড়তে হবে অনেক গ্রামকে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, যে এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হয়, তা প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকা। এর ফলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই অপরাধীরা পালিয়ে যায়। তবে অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান জানান, উপজেলায় সরকারিভাবে চিহ্নিত কোনো বালুমহল নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা টাইমস/১২ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/এমআর

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :