ইকোট্যুরিজমের নতুন সম্ভাবনা যাদুকাটা

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪৯

প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের ডালা সাজিয়ে আছে উত্তর-পূর্বের ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী। প্রায় সারা বছরই সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই নদীতীর। রূপ, সম্পদ, শ্রম ও সমৃদ্ধির নদীটিকে ঘিরে তাই রয়েছে ইকোট্যুরিজমের বিপুল সম্ভাবনাও।

ভারতীয় মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে থাকা দেশের প্রান্তিক জনপদ তাহিরপুর অফুরন্ত সম্পদ, সম্ভাবনা আর অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর। নীল আকাশে সাদা মেঘের খেলা। কখনো জমাট, আবার কখনো হালকা বাতাসে দলছুট হয়ে এই মেঘ উত্তরে দাঁড়ানো আকাশছোঁয়া বিশাল খাসিয়া পাহাড়ে গিয়ে আঁছড়ে পড়ছে। আর এসব দৃশ্যই তাহিরপুর সীমান্তবর্তী বারেকটিলা সংলগ্ন যাদুকাটা নদীর প্রান্তে ফুটে উঠছে।

খাসিয়া পাহাড়ের বুকচিড়ে বয়ে আসা পাহাড়ি ঝরনাগুলো মিলেছে যাদুকাটাসহ ১৮টি পাহাড়ি ছড়ায় (নদী)। এসব পাহাড়ি নদীতে যুক্ত শাহ আরেফিন আউলিয়ার আস্তানা, হিন্দু সম্প্রদায়ের পনতীর্থ ও ৭০০ ফুট উচ্চতার বারেকটিলার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পাশেই দেশের বৃহত্তর শিমুল বাগান।

২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে যাদুকাটা উপজেলার সবচেয়ে বড় নদী। বর্ষায় যাদুকাটার বুকে জলের ¯্রােতধারা। হেমন্তে জেগে ওঠা ধু ধু বালুচর পার হয়ে যাদুকাটার স্বচ্ছ পানিতে গোসল শেষে ফেরার পথে কলসি কাঁখে বাড়ি ফেরার সময় গায়ের বধূরা রেখে যান তাদের ভেজা পায়ের চিহ্ন। এই নদী থেকে বালু-পাথর-নুড়ি উত্তোলনে জীবিকা নির্বাহ করছেন ২০ হাজারের বেশি পাথরশ্রমিক পরিবার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা বছরই নদীতে কাজ করেন তারা। আরওহিত বালু, পাথর ও নুড়িপাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।

ভারতের সারি সারি উঁচুনিচু খাসিয়া পাহাড় ও বারেকটিলার বুকে ঘন সবুজের সমারোহ। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী গারো সম্প্রদায়ের আধো আধো বাংলা কথা বলার চেষ্টা মনে আনন্দ যোগায়।

একসঙ্গে এত সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থী ও পর্যটক। বিশেষ করে সীমান্ত নদী যাদুকাটার রূপে মুগ্ধ হয়ে দিন দিন বাড়ছেই পর্যটকের সংখ্যা। তারা কখনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ডিঙ্গি নৌকা, কখনো তীরঘেঁষা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাদুকাটার সৌর্ন্দয উপভোগ করেন।

বেড়াতে আসা স ম খোকন, শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ভূঁইয়া ও তার বন্ধুরাসহ অনেকেই বলেন, এই অপরূপ সৌন্দর্যের রূপের রানী যাদুকাটার তুলনা হয় না। এত সুন্দর পাহাড়ি নদীর সম্মিলন খুব একটা দেখা যায় না। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা না থাকায় বেড়াতে আসা লোকজনের কষ্ট হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, টাংগুয়ার হাওর, টেকেরঘাট, বারেকটিলা ও যাদুকাটা নদীতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা সারা বছরেই বেড়াতে আসেন। এখানে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ইকোট্যুরিজম স্থাপিত হলে সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :