দিনভর লোকারণ্য বইমেলা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:০৫ | প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫৫

কয়েক দিন ধরেই বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়। ভিড়টা শুরু হয় পহেলা ফাল্গুন ঘিরে। তারপরের দিন ছিল ভালোবাসা দিবস। আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাতে যেন ষোলো আনা পূর্ণতা পেল। লোকে লোকারণ্য বইমেলা।

আজ বেলা ১১টায় শুরু হয় বইমেলা। ছিল শিশুপ্রহর। এতে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলায় লোক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বাড়ছে সমানতালে। প্রকাশকরা বলছেন আশানুরূপ বই বিক্রি হচ্ছে তাদের।

বাংলা একাডেমি তথ্য কেন্দ্র থেকে জানা গেছে, আজ মেলায় নতুন বই এসেছে ২৭২টি। 

আজ ছুটির দিনে বরাবরের মতো মূল মঞ্চে ছিল শিশু-কিশোরদের নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন। বিকেলের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো ছিলই।

আর লেখক বলছি মঞ্চেও আলোচনায় অংশ নেন কবি-সাহিত্যিকরা।

শিশুপ্রহরে শিশুর রাজত্ব

সকালে মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন। এতে ক-শাখায় ১৬ জন, খ-শাখায় ১৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীত শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, সুজিত মোস্তফা ও চন্দনা মজুমদার। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

সকালে শিশুপ্রহর থাকলেও শিশুদের সঙ্গে মেলায় বড়দের উপস্থিতিও ছিল। মেলায় কথা হয় রাজধানীর আরামবাগ থেকে সপরিবারে আসা অমিত ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ছিল ছয় বছরের শিশু অমিও। অমিত বলেন, ‘মেলায় এত দিন আসা হয়নি ব্যস্ততার কারণে। আজ ছুটির দিনে ছেলেকে নিয়ে এলাম। ওর জন্য কিছু বই কিনব। নিজের পছন্দের লেখকদের বই কেনারও ইচ্ছে আছে।’

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফিরোজা বেগম এসেছিলেন তার দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ব্যবসায়ী। তাই তার অবসর তেমন একটা নেই। আজ আমার ছুটির দিন। শুনলাম মেলায় আজ শিশুপ্রহর। তাই শিশুদের নিয়ে এসেছি। ওদের পছন্দের বই কিনে দিব।’

বড়দের রাজত্বে লোকে লোকারণ্য

সকালে মেলায় শিশুদের অগ্রাধিকার রাজত্ব থাকলেও দুপুরের পর দখল চলে যায় বড়দের কাছে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সীদের ঢল নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং বাংলা একাডেমি চত্বরে। ভিড়ের কারণে লম্বা লাইন পড়ে টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের দিকে। এ জন্য অবশ্য কারো মনে খেদ ছিল না। বরং মেলায় প্রবেশের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বইপ্রেমী তরুণ-তরুণীরা। ঘুরে ঘুরে নতুন বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে দেখেছেন। পছন্দ হলে কিনে নিয়েছেন।

তাদেরই একজন ইফায়েত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইফায়েত বলেন, ‘শুক্রবারের ছুটির দিনে মেলায় এসেছি। পছন্দের লেখকদের বই কিনব। এ ছাড়া গবেষণার জন্য কিছু মৌলিক বই কেনার ইচ্ছে রয়েছে।’

মূল মঞ্চে

বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। আলোচনায় অংশ নেন কবি মোহাম্মদ সাদিক ও সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন।

প্রাবন্ধিক বলেন, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাস্তব জগৎ শুধু প্রকৃতি নয়, মূলত মানুষকে ঘিরে; সময়ের মধ্যে হাঁটেন তিনি, মানুষময় ভাবনায় মগ্ন থাকেন। এই মানুষের সঙ্গে আসে সমাজের ক্ষত-ক্ষতি-তমসা, মানবতার সংকট ও বিকৃতি।

আলোচকরা বলেন, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বাংলা কবিতাকে দিয়েছেন নতুন দিশা। দৈনন্দিন কথ্য বুলিকে তিনি অনায়াসে যেমন কবিতা করে তোলেন তেমনি জীবন ও জগতের নিগূঢ় দর্শনকে কবিতার মধ্য দিয়ে বাক্সময় করেছেন। পূর্ববাংলার মানুষ নীরেন্দ্রনাথ তার আপন মৃত্তিকাকে কখনও বিস্মৃত হননি। তার কবিতায় এবং অন্যান্য লেখায় বারবার ফিরে এসেছে পূর্ববাংলার মাটি ও মানুষের কথা।

লেখক বলছি মঞ্চ

লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন গোলাম কিবরিয়া পিনু, আসলাম সানী, জুলফিয়া ইসলাম, ফারুক আহমেদ ও পলাশ মাহবুব।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি ইকবাল আজিজ ও হারিসুল হক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল এবং রূপা চক্রবর্তী।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল হাসান আব্দুল্লাহর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঘাসফুল শিশুকিশোর সংগঠন’ এবং আতিকুর রহমান উজ্জ্বলের পরিচালনায় ‘ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র’-এর নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা।

(ঢাকাটাইমস/১৫ফেব্রুয়ারি/এজেড মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :