বৈষম্য দূর করতে পারিনি, এটা স্বীকার করি: পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৪

যাদের সম্পদ আছে তাদের সম্পদ বহুগুণে বেড়েছে মন্তব্য করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আমরা বলছি না বৈষম্য দূর করতে পেরেছি। কারণ যাদের সম্পদ আছে তারা বহুগুণে আরও উপরে চলে গেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা ব্যথিত কিন্তু আমরা বাস্তবতাকে স্বীকার করি। বৈষম্য, দীর্ঘকালের অবিচার, বঞ্চনা এগুলো আমরা স্বীকার করি। এগুলো মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে, সমস্যাকে মোকাবেলা করতে হবে।

শনিবার আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (এসএএনইএম- সানেম) আয়োজিত চতুর্থ বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলন-২০১৯ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ কথা বলেন। মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ১৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে ১৭ ফেব্রুযারি। সানেমের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বজলুল হক খন্দকার , নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রমুখও বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগে এক রিপোর্টে বলা হয়, ধনীদের ধনী হওয়ার দিক দিয়ে বাংলাদেশ শীর্ষে।

প্রধান অতিথির বক্তবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘উপরের মাত্রাটা অনেক বেড়ে গেছে, নিচের মাত্রটা সামান্য হারে বেড়েছে। এখন প্রতি পাঁচজনের একজন দরিদ্র। আমরা শুরু করেছিলাম তখন পাঁচজনের দুজনের বেশি ছিল। এটাকে আমাদের জন্য একটা কৃতিত্ব। তবে এটা আত্মতুষ্টির ব্যাপার নয়। আমাদের আরও সামনে যেতে হবে। যাওয়ার জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম ও কাজ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্য গবেষণার বিষয় আছে। ব্যথা সবই আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো দারিদ্র্যকে মোকাবেলা করতে হবে। দারিদ্র মানে মোটা দাগে সম্পদের অভাব। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সেই সম্পদকে এমন ভাবে দেওয়া যাতে তারা এটা দিয়ে টেকসই উন্নয়ন করতে পারে। তারা যেন একটা অবলম্বন পায় হাত ধরে এগোবার।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘আমরা গত কয়েক বছরে সামাজিক নিরাপত্তা গড়ে তুলেছি। দরিদ্র মানুষ, যারা বয়স্ক মানুষ, বিকলাঙ্গ, শিশু, মা সবার জন্যই নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছি। ৬৫ উপরে বয়স তদের জন্য ব্যবস্থা রেখেছি। তাদের নগদ অর্থ দিচ্ছে সরকার। এ টাকা এক দুই বছর নয়। আমরা কয়েক বছর ধরে এটা দিয়ে যাচ্ছি। যে দরিদ্র সে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। তারা কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপাদান শ্রম ও শ্রমিক। এটাকে কাজে লাগাচ্ছি আমরা। আমরা দুইভাবে এটা রপ্তানি করি। জনশক্তি বিদেশ রপ্তানি করি। আরেকটা শ্রম ব্যবহার করে গার্মেন্টস সেক্টর, ফসল সবজি, ওষুধ ইত্যাদি প্রক্রিয়া করে রপ্তানি করি। অর্থনৈতিক উন্নয়নে গত কয়েক বছর রপ্তানিতে বিরাট অবদান ছিল। আমাদের কাজের মাধ্যমে উৎপাদন করতে হবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিই, কাজে লাগাই। ৩০ থেকে ৫০ বছর মেয়াদি ঋণ নিই। বলা হয়, কোমল সুদ, সফট ইনট্রেস্ট। সেটা কতটা সফট সেটা আমরা দরজা-জানালা বন্ধ করে দেখি। অতটা সফট নয়। যাই হোক এটার প্রয়োজন আছে। আমরা ঋণ নিই কাজে লাগাই।’

মান্নান বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক তাড়াহুড়ো আছে। আমরা পৃথিবীর সঙ্গে চলতে চাই। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করতে চাই। আমাদের তরুণরা বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলুক সেটা চাই। এজন্য সব ক্ষেত্রে কাজ করছি। শিক্ষা, স্বাস্থ, কৃষি, খেলাধুলা, শিল্প-সাহিত্য, সড়ক, বিদ্যুৎ, সব জায়গায় কাজ করছি।’

(ঢাকাটাইমস/১৬নভেম্বর/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :