জামায়াত নেতার আ.লীগে আসার প্রমাণ নেই কাদেরের কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:২১ | প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:১১
২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত নেতা সোহরাব আলী আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন ফাইল ছবি

স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক নেতার আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার ঘটনায় তুমুল সমালোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই ওবায়দুল কাদেরের কাছে। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।

সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ কথা বলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক।

দলীয় নানা বিষয়ে আলোচনা হলেও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছিল জামায়াত প্রসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটির ভূমিকা নিয়ে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে আবদুর রাজ্জাকের দল ত্যাগের মধ্য দিয়ে। রাজ্জাক বলেছেন, তিনি মনে করেন, জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমতা চাওয়া উচিত। তিনি বহুবার সে চেষ্টা করেও দলের নেতাদের রাজি করাতে পারেননি।

পদত্যাগী জামায়াত নেতা মনে করেন, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো দলের রাজনীতিতে সফল হওয়ার উদাহরণ নেই বিশ্বে। এ কারণে জামায়াতও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সফল হয়নি। তিনি জামায়াতের নাম পাল্টানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, জামায়াত নতুন নামে এলে তা কীভাবে দেখবেন। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন বোতলে, পুরাতন পানীয়- এমন যদি হয়, নাম পরিবর্তন করবে কিন্তু আদর্শ একই এবং অঁটুট থাকবে তাহলে সেটা পরিবর্তন কী? নাম পরিবর্তন করল, কিন্তু নীতি আদর্শ পরিবর্তন করলেন না, তাহলে পরিবর্তন কী হলো? এটাকে পরিবর্তন বলা চলে না।’

জামায়াতের কোন নেতা যদি ৭১ এর ভুল বুঝতে পেরে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে আওয়ামী লীগে আসার প্রস্তাব করে?- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এ রকম কোনো প্রস্তাব কেউ কি করেছে? যদি নদীতে ফেলে দেন। জামায়াতের কোন লোককে আমরা মনোনয়ন দেইনি। জামায়াতের কোন নেতা তৃণমূলে যোগ দেয়ার প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।’

কাদের অস্বীকার করলেও নানা সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংসদ সদস্যদের হাত ধরে একাধিক জামায়াত নেতার আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গত ডিসেম্বরে কক্সবাজারে জামায়াত ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন মোক্তার আহমেদ। গত ২৬ ডিসেম্বর একটি সমাবেশে তাকে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু, মোক্তার কৌশলে সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এর কিছুক্ষণ পর তারা মোক্তার হোসেনের ওপর হামলা করেন। পরে মোক্তার সমর্থকরা এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

২০১৪ সালের ১৬ মার্চ পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ যোগ দেন স্থানীয় জামায়াতে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী। যোগদানকারীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দলটির আতাইকুলা ইউনিয়ন শাখার নায়েবে আমির রাজ্জাক হোসেন রাজা।

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগে যোগ দেন নাশকতার একাধিক মামলার আসামি জামায়াতের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা সোহরাব আলী। বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়ে তিনি সদর আসনের সেই সময়ের সংসদ সদস্য আবদুল ওদুদের হাতে ফুল দিয়ে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেন। 

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের হাতে ফুল দিয়ে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন নওশের আলী। তিনি জামায়াত-সমর্থক কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি।

ওবায়দুল কাদেরের কাছে আরো প্রশ্ন ছিল জামায়াতের বর্তমান পরিস্থিতিকে আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘শেষ না দেখা পর্যন্ত আমরা কোন মন্তব্য করতে চাই না।’

এখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার উপযুক্ত সময় কি না- জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘আমরা সব সময়কে উপযুক্ত সময় মনে করি। এখানে আদালতের একটা সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে সেটাকে তো আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’

জামায়াত নিষিদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন ঝুলে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন বলে তার সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারছে না।

উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গ

অন্য এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, উপজেলা নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক ও সুন্দর হয়, সে জন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা কবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা বিষয়টি নিয়ে তদারকি করবেন।

ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত রাখা হলেও আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটি একজন প্রার্থী বেছে নিতে পারবে বলেও জানান কাদের। বলেন, ‘এর অপশনাটা আমরা তাদের উপর ছেড়ে দিয়েছি। যদি না পারে, তাহলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় যারা জিতবেন তারাই বিজয়ী হবেন।’

ভাইস চেয়ারম্যান পদ উন্মুক্ত রাখলে কোন্দলের কারণে নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা করেন কি না- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘হানাহানি ও দলীয় কোন্দলের আশঙ্কা তো জাতীয় নির্বাচনের আগেও ছিল। কিন্তু তখন যখন হয়নি। স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় কিছু প্রতিযোগিতা থাকে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা অনেকই করছে। কিন্তু আমরা চাই সেটা অমূলক প্রমাণিত হোক।’

জাতীয় নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে

জাতীয় নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থী ছিলেন, তাদের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এবার আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন ফরিদপুর-৪ আসনে। নৌকার প্রার্থী জাফর উল্লাহ চৌধুরীকে হারিয়েছেন নিক্সন চৌধুরী।

বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনেও। এই আসনটি আওয়ামী লীগ ছেড়ে দেয় জাতীয় পার্টিকে। কিন্তু লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান বসে যান আর বিদ্রোহী শহীদ ইসলাম পাপুলকে সমর্থন জানায় আওয়ামী লীগ। আর তিনি জিতেও যান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে আমাদের কার্যনির্বাহী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। আমরা সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেছি।’

‘অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এবারে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলো একেবারেই কম। এগুলো নিয়ে এতদিন আমরা খোঁজ-খবর নিয়েছি। যারা নির্বাচন শেষ পর্যন্ত ছিলো তাদের বিরুদ্ধে আমরা পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিতে শুরু করব। নেত্রী দেশে ফিরে আসলে এই বিষয়ে আলাপ আলোচনা করব।’

‘সো ফার আমরা দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছি। নেত্রী এলেই আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’

উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেবেন- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত ব্রেক করা মানেই হলো দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা। এর একটা শাস্তিতো রয়েছে। পরবর্তী মিটিং শাস্তিটা কী হবে এটা নির্ধারণ হবে।’

বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হতাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা যেই কোন মুহূর্তে লড়াই করতে পারি। হতাশা আমাদের অভিধানে নেই।’

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৮ফেব্রুয়ারি/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :