মেজর জিয়া কোথায়?

আশিক আহমেদ
 | প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:১৯

উগ্রবাদী নানা হামলার তদন্তে বারবার আসছে তার নাম। জানা যাচ্ছে, নেপথ্যে বা পরিকল্পনায় অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত এই কর্মকর্তা জিয়াউল হকের নাম।  কিন্তু তিনি কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে কোনো ধারণাই করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

২০১৫ সালে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে মেজর জিয়াকে চিহ্নিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের জঙ্গি বিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তবে তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই তাদের। 

ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মেজর জিয়ার সম্পর্কে সুনিদিষ্ট কোনো তথ্য নেই আমাদের কাছে। তবে তিনি সেই অর্থে সক্রিয় নেই। তিনি স্বক্রিয় থাকলে আমরা তার অবস্থান সম্পের্কে নিশ্চিত হতে পারতাম।’

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) আধ্যাত্মিক নেতা জসীমুদ্দিন রাহমানীকে গ্রেপ্তারের পর জিয়াউল হকের উগ্রপন্থায় সম্পৃক্ততার কথা জানতে পারেন গোয়েন্দারা। তারা বলছেন, ব্লগার, প্রকাশক, মুক্তমনা লেখকসহ অন্তত নয়জনকে টার্গেট করে হত্যার নেপথ্যে ছিলেন এই চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা। আরও কয়েকজনকে হত্যাচেষ্টা পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, ওই সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গুপ্তহত্যাসহ নানা পরিকল্পনার নেপথ্যে এই মেজর জিয়া। তিন বছরে তার তত্ত্বাবধানে এবিটির অন্তত আটটি স্লিপার সেল তৈরি হয়। প্রতিটি সেলের সদস্য সংখ্যা চার থেকে পাঁচজন। সেই হিসাবে অন্তত ৩০ জন দুধর্ষ ‘স্লিপার কিলার’ জঙ্গি তৈরি করেছেন তিনি। তারাই ব্লগার, প্রকাশক, মুক্তমনা ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যা করেছে।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অন্যতম এই মেজর জিয়া। সে সময় বেশ কয়েকজন ধরা পড়লেও পালিয়ে যান তিনি। তার পলাতক থেকেই দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিস্তারে অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন।

রাজধানী ও এর আশপাশে টার্গেট কিলিংয়ে জড়িত কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পরও জিয়ার নাম জানা যায়। এসব জঙ্গির মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পর্যালোচনা, ই-মেইল অ্যাকাউন্ট, ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট ঘেঁটেও অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) একাংশের সঙ্গেও মেজর জিয়ার যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দারা। তাকে ধরতে ২০ লাখ টাকা পুরষ্কারও ঘোষণা করেছিলেন সাবেক আইজিপি শহীদুল হক। 

নয়টি হত্যার ‘মূল পরিকল্পনায়’ জিয়া

২০১৩-২০১৫ সালের মধ্যে পাঁচজন ব্লগার, একজন প্রকাশক ও সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতেন এমন দুই জনকে হত্যা করেছে আনসারউল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটি। এই সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হত্যার পেছনেও ছিল তারা। এসব ঘটনার তদন্ত করে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জিয়ার নাম উঠে এসেছে।

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল কলাবাগানের একটি বাসায় জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় নামে দুই জনকে হত্যা করে এবিটির স্লিপার সেলের সদস্যরা। তারা দুই জনই সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতেন। একই বছরের ৫ এপ্রিল রাজধানীর সূত্রাপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন সামাদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির অদূরে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়, তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ, রাজধানীর গোড়ানে ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জি ওরফে নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই বছরের শেষ দিকে আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ কার্যালয়ে হত্যা করা হয় জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপনকে। এর আগে ২০১৩ সালে রাজধানীর পল্লবীতে খুন হন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার।

কে এই মেজর জিয়া?

জিয়ার পুরো নাম সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক। তার বাবার নাম সৈয়দ মোহাম্মদ জিল্লুল হক। গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুরে। আত্মগোপনে যাওয়ার আগে মিরপুর সেনানিবাসে থাকতেন।

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনা সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীর সাবেক ও তৎকালীন কিছু সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থাানের চেষ্টা করে। পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে মেজর জিয়া।

মেজর জিয়া জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও সেনা সদর দপ্তর জানিয়েছিল। এই অভ্যুত্থানচেষ্টার পেছনে ইশরাক আহমেদ নামে তার এক প্রবাসী বন্ধু যুক্ত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৯ফেব্রুয়ারি/এএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :