নামকরা পরিবহনের নামে অনলাইনে প্রতারণার খপ্পর

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৯

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবদুস সালাম। চাকরি শেষে ফিরে গেছেন নিজ গ্রামে। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন ধুমধাম করে। বিয়ের আসরে কথা দিয়েছিলেন মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে হানিমুনে দার্জিলিং পাঠাবেন। অনলাইনে বিভিন্ন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। বিকাশের মাধ্যমে ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে এক তৃতীয়াংশ টাকা পাঠান। বাকি টাকা ও পাসপোর্ট নিয়ে তাদের ডাকা হয় রাজধানীর একটি ঠিকানায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে কোনো ট্যুর বুকিং হয়নি এবং আর ট্রাভেলস কোম্পানি বিকাশে মাধ্যমে কোনো টাকা নেন না। আর যে নম্বরে টাকা পাঠিয়েছিলেন সেটাও তাদের না। আবদুস সালাম বুঝতে পারেন তিনি অনলাইন প্রতারণার খপ্পরে পড়েছেন।

এনা পরিবহন অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের আদলে ভুয়া ফেসবুক পেজ তৈরি করে অনলাইনে টিকিট বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি চক্র।

রবিবার রাজধানীর ডেমরা সারুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতা নোকরুজ্জামান নতুনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ২১টি মোবাইল সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। 

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সালমান হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘চক্রটি অনলাইনে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্টের টিকিট বিক্রির নামে যাত্রীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। এনা ট্রান্সপোর্টের কাছ থেকে একটা অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ এই চক্রকে ধরতে মাঠে নামে। চক্রের মাধ্যমে অনেক সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছে। গ্রেপ্তার চক্রটিতে আর কোনো সদস্য কাজ করে কি না সেটা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত নোকরুজ্জামান প্রতারণার এই কাজে ১৩০টি মোবাইল সিম ব্যবহার করে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন। এনা ট্রান্সপোর্ট বাদেও- হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, শ্যামলী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো এবং সর্বশেষ আপডেট তথ্যগুলোও ব্যবহার করত। এতে সাধারণ গ্রাহক ওই পেজে যোগাযোগ করত। অনেকে বিকাশ-রকেটে টাকা পাঠিয়ে কিনে ফেলতেন ভুয়া টিকিট। পরে কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারতেন তাদের জন্য কোনো টিকিট নেই। এতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায় বাকবিতণ্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটত।

এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকার শামিম। ঢাকায় আসবেন একটি চাকরির পরীক্ষা দিতে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে অনলাইনে কেনেন বাসের টিকিট। কিন্তু কাউন্টারে এসে জানতে পারেন তার নামে কোনো সিট বিক্রি হয়নি। পরে তিন ঘণ্টা পর অন্য বাসের টিকিট কেটে ঢাকা এলেও যানজটের কারণে ঠিক সময়ে তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারায় পরীক্ষা দিতে পারেননি।

(ঢাকাটাইমস/১৯ফেব্রুয়ারি/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :