বিশ্বকাপের সেঞ্চুরি নিয়ে যতো কথা

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫২ | প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৪৮

আইসিসি বিশ্বকাপের ১২তম আসরটি শুরু হতে আর বেশিদিন নেই। আগামী ৩০ মে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শুরু হবে আইসিসি বিশ্বকাপের ১২তম আসর। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের আসরে অংশ নিবে দশটি দল। বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রতিটি দলই ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

২০১৫ সালে বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসরটি বসেছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। ওই আসরে প্রচুর রান হয়েছিল। সেঞ্চুরি হয়েছিল মোট ৩৮টি। বিশ্বকাপে এর আগে এতো সেঞ্চুরি অন্য কোনো আসরে হয়নি। এবারের আসরটি কেমন হবে তা সময়ই বলে দিবে। তবে, পাঠক আসুন বিশ্বকাপে গত ১১ আসরের সেঞ্চুরি নিয়ে যতো সব পরিসংখ্যান জেনে নিই।

১৬৫টি সেঞ্চুরি

১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মোট ১৬৫টি সেঞ্চুরি হয়েছে। সেঞ্চুরি করেছেন মোট ১০৩ জন।

বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান রিয়াদ

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে দুইটি সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৩ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৮*রান করেছিলেন তিনি। রিয়াদই বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি আইসিসি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেছেন।

সেঞ্চুরির রাজা

বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির রাজা হলেন লিটল মাস্টার হিসাবে খ্যাত শচীন টেন্ডুলকার। ভারতীয় এই কিংবদন্তির বিশ্বকাপে ৬টি সেঞ্চুরি রয়েছে। পাঁচটি করে সেঞ্চুরি করে শচীনের পরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ও শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। পাঁচজন ক্রিকেটারের চারটি করে সেঞ্চুরি আছে। তারা হলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, তিলকারত্নে দিলশান, সৌরভ গাঙ্গুলী, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও মার্ক ওয়াহ।

২০১৫-সেঞ্চুরি উৎসব

২০১৫ সালের আসরে অন্য সব আসরের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি হয়েছে। ওই আসরে মোট ৩৮টি সেঞ্চুরি হয়েছিল যা ২০১১ সালের আসরের চেয়ে ১৪টি বেশি। ১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছিল ৬টি। এরপর ১৯৭৯ সালে ২টি, ১৯৮৩ সালে ৮টি, ১৯৮৭ সালে ১১টি, ১৯৯২ সালে ৮টি, ১৯৯৬ সালে ১৬টি, ১৯৯৯ সালে ১১টি, ২০০৩ সালে ২১টি, ২০০৭ সালে ২০টি, ২০১১ সালে ২৪টি ও ২০১৫ সালে ৩৮টি করে সেঞ্চুরি হয়।

প্রথম সেঞ্চুরিয়ান

বিশ্বকাপের প্রথম আসরের উদ্বোধনী দিনে সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেনিস অ্যামিস ও নিউজিল্যান্ডের গ্লেন টার্নার। লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে ১৩৭ রান করেছিলেন অ্যামিস। এজবাস্টনে পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭১ রান করে অপরাজিত ছিলেন টার্নার।

দ্রুততম সেঞ্চুরি

বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রাইনের দখলে। ২০১১ সালের ২ মার্চ বেঙ্গালুরুতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। আউট হয়েছিলেন ৬৩ বলে ১৩টি চার ও ছয়টি ছক্কার সাহায্যে ১১৩ রান করে। তার সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডকে ৩ উইকেটে হারিয়েছিল আইরিশরা।

কনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান

২০১১ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের ওপেনার পল স্টার্লিং। ওইদিন তার বয়স ছিল ২০ বছর ১৯৬ দিন। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৭২ বলে ১০১ রান করেছিলেন স্টার্লিং। তার দল জয় পেয়েছিল ৬ উইকেটে। স্টার্লিংয়ের চেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে কেউ সেঞ্চুরি করতে পারেনি। এমনকি স্টার্লিং ছাড়া ২১ বছরের নিচে বিশ্বকাপে কোনো সেঞ্চুরিয়ান নেই।

বেশি বয়সে সেঞ্চুরি

বেশি বয়সে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি তিলকারত্নে দিলশানের দখলে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৮ বছর ১৩৫ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তার ঠিক ১৩ দিন পরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ওই রেকর্ড ভেঙেছিলেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন ৩৮ বছর ১৪৮ দিন বয়সে।

দল হিসাবে বেশি সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়ার

পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী দল অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপে মোট সেঞ্চুরি রয়েছে ২৬টি। অন্য কোনো দলের বিশ্বকাপে এতো সেঞ্চুরি নেই। ২৫টি সেঞ্চুরি আছে ভারতের। শ্রীলঙ্কার আছে ২৩টি। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭টি, নিউজিল্যান্ডের ১৫টি, দক্ষিণ আফ্রিকার ১৪টি, পাকিস্তানের ১৪টি ও ইংল্যান্ডের ১১টি করে সেঞ্চুরি রয়েছে।

ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি

এখন পর্যন্ত ৬ জন ক্রিকেটার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। প্রথম আসরের ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড। ৮৫ বলে ১০২ রান করেছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সালের ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন আরেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান তারকা স্যার ভিভ রিচার্ডস। ১৩৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি করে শ্রীলঙ্কাকে শিরোপা জিতেয়েছিলেন অরভিন্দ ডি সিলভা। ১০৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

২০০৩ সালের ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়াকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন অধিনায়ক রিকি পন্টিং। ১২০ বলে ১৪০ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়াকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। তিনি করেছিলেন ১৪৯ রান। এই তালিকায় সর্বশেষ খেলোয়াড় হচ্ছেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে। ২০১১ সালের আসরের ফাইনাল ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৮৮ বলে ১০৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

সেঞ্চুরির শহর

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। এখানে মোট সাতটি সেঞ্চুরি হয়েছে। পাকিস্তানের করাচিতে সেঞ্চুরি হয়েছে ৬টি।

(ঢাকাটাইমস/১৯ ফেব্রুয়ারি/এসইউএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :