কেইপিজেডে দুই মাস ধরে ‘মও’ আতঙ্ক

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:২৫

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই তারা নেমে আসে লোকালয়ে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ‘মও’ আতঙ্ক। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শাহমীরপুর, দৌলতপুর গ্রাম ও কর্ণফুলী উপজেলার কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) প্রায় দুই মাস ধরে চলছে ‘মও’-এর তা-ব।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় হাতিকে ডাকা হয় ‘মও’ নামে। দিনের বেলায় স্থানীয় দেয়াং পাহাড়ে অবস্থান করে দুটি বন্য হাতি। সন্ধ্যার পর সড়ক ও লোকালয়ে নেমে আসে। শুরু হয় মানুষের ছোটাছুটি। সবাই উচ্চৈঃস্বরে হাঁক দেয়- ‘মও আইয়ের...’ (হাতি আসছে...)।

হাতির আক্রমণে গত ১৯ জানুয়ারি সকালে শাহমীরপুর গ্রামে আহত হন রুনা আক্তার (২৫) ও তার ছেলে শরীফুল ইসলাম সাইমন (৪)। গত বছরের ১৩ জুলাই বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান বৃদ্ধ আবদুর রহমান (৭০)। কর্ণফুলীর বড়উঠান খিলপাড়ায় হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয় জালাল আহমদের (৭২)। চাপাতলি গ্রামে আহত হন আরেক নারী। এর আগে মরিয়ম আশ্রম এলাকায় জুয়েল দাশ নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়।

কেইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, বন্য হাতি দুটি গাছপালা উপড়ে ফেলছে। স্থাপনা ভাঙছে।

এখানকার ২৩টি কারখানায় কাজ করেন আনোয়ারা-কর্ণফুলী ও আশপাশের এলাকার প্রায় ২২ হাজার শ্রমিক। সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার জন্য বের হতেই হাতি আতঙ্ক ঘিরে ধরে তাদের।

কেইপিজেডের প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মঈনুল আহসান জানান, গত দুই মাসে বন্য হাতি তা-ব চালিয়ে কেইপিজেডের বনায়নকৃত নারকেল গাছ, সুপারি গাছসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছপালা উপড়ে ফেলেছে। ভেঙে দিয়েছে বেশ কয়েকটি স্থাপনা। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখানে দায়িত্বরত শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের মধ্যে মাও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

‘মও আইয়ের’ শুনলেই কাঁসা, ঘণ্টা ও টিন বাজিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করেন গ্রামবাসী। বলেন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় দাশ। পাহাড় থেকে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে স্থাপনা। বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে বন্য হাতি। তাই তারা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে, ধানক্ষেতে গিয়ে ধান খাচ্ছে। ঘরে ধান খুঁজতে গিয়ে সব গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এমনটাই মনে করেন তিনি।

শাহমীরপুর গ্রামের প্রবীণ শামসুল আলম জানান, পাহাড়সংলগ্ন এলাকার অনেক মানুষ এখন রাত জেগে গ্রাম পাহারা দেয়। কখনো বাজি ফুটিয়ে আবার কখনো মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়। প্রায় প্রতি রাতে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতি দুটি।

বন্য প্রাণী বিভাগ হাতি দুটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে জানিয়ে বন বিভাগ পটিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন দেয়াং পাহাড়ে গিয়ে হাতিগুলো আরও গভীর জঙ্গলে পাঠানোর চেষ্টা করছি।’

তবে হাতি দুটি তাড়াতে এখানে বন বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই বলে জানান কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ। বলেণ, ‘এ জন্য একজন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সচেষ্ট আছি। আশা করছি শিগগির এ আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলবে।’

(ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বন্দর নগরী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :