মানুষের ক্যান্সার রুখবে হাঙ্গর

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৫

গ্রেট হোয়াইট শার্ক নামে পরিচিত সাদা রঙের হাঙ্গরের বৃহদাকার এই প্রজাতিটি মানুষের  ক্যান্সার ও বয়স জনিত রোগ নিরাময়ের গোপন রহস্য ধারণ করে রেখেছে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্রেট হোয়াইট শার্কের ডিএনএ’র প্রথম ম্যাপিং প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, সেখানে জিনের ডিএনএ গঠনের স্থায়ী পরিবর্তন বা ‘মিউটেশন’এর যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে- তা প্রাণীকে ক্যান্সার ও বয়স জনিত রোগ থেকে রক্ষা করে।

বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টিতে বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। আরও গবেষণার মাধ্যমে এ থেকে প্রাপ্ত ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে ক্যান্সার ও বয়স জনিত রোগ নিরাময়ে কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করছেন তারা।

বড় এই সাদা হাঙ্গর নিজে থেকেই তার নিজের ডিএনএ মেরামত করার ক্ষমতা রাখে। যেমনটি মানুষের নেই। এই গবেষণাটি চালিয়েছেন ফ্লোরিডার নোভা সাউথ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী ‘সেভ আওয়ার সীজ শার্ক রিসার্চ সেন্টারে’র ব্যানারে।

মানুষের কিছু ‘পরিবর্তনশীল জিন’ বয়স জনিত রোগ ও ক্যান্সারের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। কিন্তু হাঙ্গরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে হারিয়ে শীর্ষে অবস্থান করে আসছে। সেজন্যেই নিজেরাই তারা তাদের জিনকে মেরামত করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষতি কাটিয়ে সহনশীল হওয়ার বিকাশ ঘটেছে।

গবেষণাটির সহ-নেতা মাহমুদ শিভজি বলেন, ‘জিনোম-এর অস্থিতিশীলতা বা পরিবর্তনশীলতা মানুষের বহু গুরুতর রোগের জন্য দায়ী। আমরা এখন দেখতে পারছি, এসব বৃহদাকার ও দীর্ঘজীবী হাঙ্গরগুলোর ক্ষেত্রে প্রকৃতি জিনোম-এর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুচতুর কৌশল বিকাশ করেছে।’

তার মতে, বিবর্তনের এসব বিস্ময়কর বিষয় থেকে শেখার আছে প্রচুর। এসব তথ্য থেকে ক্যান্সার এবং অধিক বয়সের বিভিন্ন রোগ কিভাবে প্রতিরোধ করা যেতে পারে তা যেমন জানা যাবে, তেমনি ক্ষত নিরাময়ের কৌশলও পাওয়া যাবে। যা প্রাণী জগতে অনেকেই করে আসছে।

প্রায় ১৬ মিলিয়ন বছর ধরে সাগরে বিচরণ করছে এই গ্রেট হোয়াইট শার্ক। এদের সবচেয়ে বড় প্রজাতিটি দৈর্ঘ্যে হয় ২০ ফিট এবং ওজন হয় তিন টন। হাঙ্গরের ডিএনএ মানুষের চেয়ে অন্তত দেড় গুণ বড় হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন ডিএনএতে সংরক্ষিত সেসব তথ্য বা কোড-এর অর্থ বের করতে। যার মাধ্যমে হাঙ্গর তার সমস্যার সমাধান কিভাবে করছে সেই রহস্য কাজে লাগানো যাবে।

হাঙ্গর সাধারণত গুরুতর আহত অবস্থা থেকে নিজেদের দ্রুত নিরাময় করে তুলতে পারে। সুতরাং গবেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত তথ্য তাদের ক্ষত নিরাময় ও রক্ত জমাট বাধার সমস্যার সমাধানও দেবে। কৃতির অন্যতম ভয়ঙ্কর এই প্রাণীটিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরবে এই গবেষণা। সূত্র: বিবিসি

ঢাকাটাইমস/২০ ফেব্রুয়ারি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :