বেরোবিতে পানির ট্যাংক পড়ে আহত তিন শিক্ষার্থী

বেরোবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩০

বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ে ভবনের ছাদ থেকে পানির ট্যাংক পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয়েছেন আরেক শিক্ষার্থী।

বুধবার দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনিরা খাতুন ও রুমি আখতার এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুলতান মাহমুদ।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের বিক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, আগামী ২৩-২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ^বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ওয়াজেদ রিসার্স ইনস্টিটিউট সংলগ্ন মাঠে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। ওই ক্যাম্পের ভ্রাম্যমাণ ওয়াশরুমে পানির সুবিধা দিতে ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনের ছাদ থেকে ট্যাংক আনতে যান বিশ^বিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখার দুই কর্মচারী শামীম আহমেদ ও আজহারুল ইসলাম। এ সময় তাদের হাত থেকে একটি ট্যাংক নিচে পড়ে যায়। এতে রুমি আক্তার মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারান। ট্যাংকের একটি অংশ মুনিরা খাতুনের বাম হাতে এসে পড়লে তিনিও গুরুতর আহত হন।

ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দ্রুত ভবনের ছাদ থেকে পালিয়ে যান ওই দুই কর্মচারী। পরে আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন সহপাঠীরা।

ঘটনার পরপর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে বরখাস্তের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তাৎক্ষণিক ওই দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনা তদন্তে বিশ^বিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আতিউর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। প্রক্টর দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মনিরা খাতুনকে কমিটির সদস্যসচিব ও সহকারী প্রক্টর ছদরুল ইসলাম সরকারকে সদস্য করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

প্রকৌশল দপ্তরের দুই সহকারী প্রকৌশলী শরিফ পাটোয়ারি ও কমলেশ রায় জানান, পানির ট্যাংক আনার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। ওই দুই কর্মচারী তাদের কিছু না জানিয়ে ট্যাংক আনতে গিয়েছিলেন।

প্রকৌশল দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, শামীম নিজ উদ্যোগে আয়োজকদের সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শামীম ও আজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্ট করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রংপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক রওশানুল ইসলাম সংগ্রাম জানান, শামীম স্যানিটেশনের দায়িত্বে ছিল। তাই তিনি ট্যাংক আনতে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি শামীমকে কিছু বলেননি।

বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানার পর শিক্ষার্থীদের রংপুর মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছি। যদি এ ঘটনার সাথে কারও কোন ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/ইএস/মোআ)   

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :