ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি চায় ডিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:১৮

‘২০০৬ সালে বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা সহজে ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৫তম ছিল আজ সেটা ১৭৬তম হয়েছে। বাংলাদেশের সূচকটির উন্নয়নে আমরা দ্রুত সময়ে বিডা, বেজা, ও হাইটেক পার্কের সমন্বয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেখতে চাই। এক্ষেত্রে ডিসিসিআই ভবনেও একটি ইউনিট খোলা যেতে পারে, যেখান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন সেবা পাবেন।’

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর এসব কথা বলেন।

ডিসিসিআর সভাপতি বলেন, ভিয়েতনামের অবস্থান ২০০৬ যেখানে ৯৯তম ছিল আজ তাদের অবস্থান ৬৯ তম। তাদের ব্যবসা করার পরিবেশ উন্নতি হচ্ছে আর আমাদের পেছাচ্ছে।

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ডিসিসিআইর নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদ চলতি বছরের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে । সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়িক খাতের বিভিন্ন বিষয়ে জানান। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আশরাফ আহমেদ, দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, আল আমিন, রাশেদুল করিম মুন্না এবং এস এম জিল্লুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

প্রসঙ্গত, মোটা দাগে ১০টি ভিত্তির ওপরে বিশ্বব্যাংক ডুয়িং বিজনেসের র‌্যাঙ্কিং করে। এগুলো হলো ব্যবসা শুরুর অনুমোদন, ভবন নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুৎ–সংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ডিসিসিআই ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন সম্পর্কিত একটি পজিশন পেপার প্রকাশ করবে। সেখানে এ সূচকে যে দেশগুলো দ্রুত উন্নতি করেছে তাদের সংস্কার অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করব। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নেতৃত্বে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের কাছ থেকে সার্বিক সহায়তা আশা করি।’বছরব্যাপী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয়সমূহ নির্ণয়ে সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষের অংশীদারিত্ব জরুরি।

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক ধারাকে লক্ষ্য করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এই গতিশীলতা অব্যাহত রাখতে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে, ডিসিসিআই মনে করে বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানে ২৭৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬%, রপ্তানি আয় ৪১.০১ বিলিয়ন ডলার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২.০২ বিলিয়ন ডলার এবং নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমানে আট লাখ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে। তবে নিয়মিত ভ্যাট দেয় মাত্র ৩৭ হাজার। আমরা মনে করি ভ্যাটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হার হওয়া উচিত। আমরা ৭ শতাংশ হারে ভ্যাটের সুপারিশ করেছি।

এসময় ব্যাংকের ঋণ দক্ষতা বৃদ্ধি, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে কার্যকর, স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠনসহ সরকারি বেসকারি ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা জানান এই সংগঠনের নেতারা। বিনিয়োগ বাড়াতে বন্ড মার্কেট চালুর দাবি জানায় ডিসিসিআই।

সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, করপোরেট কর এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। এর প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ করে করপোরেট কর কমানো হোক।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন , অবকাঠামোখাতে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট চালু করা দরকার। বাংলাদেশে বন্ড মার্কেটের সম্ভাবনা বিষয়ে আমরা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় আগামী এপ্রিল ২০১৯ এ দিনব্যাপী একটি সম্মেলনের আয়োজন করব। এর মধ্য দিয়ে বন্ড মার্কেট উন্নয়নে সুপারিশ ও সহায়ক নীতিমালা প্রস্তাব করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :