দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:০৪ | প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৬

সরকার চকবাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

আগের রাতে চকবাজার এলাকায় রাস্তার ওপরে থাকা একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে গাড়িটে উড়ে যায়। সেখান থেকে আগুন লাগে বিদ্যুতের তারে। এরপর ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনে। সেখানে রাসায়নিকের গুদাম ছিল আর সেই ভবনটির ভেতরে আর এ কারণে আগুন নেভাতে বিপাকে পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। পাঁচ ঘণ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে, আর ১০ ঘণ্টায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর একের পর এক মরদেহ বের হতে থাকে। এই সংখ্যাটি এক পর্যায়ে ৭০ জনে পৌঁছায়।

এই ঘটনাটি ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নীমতলীর আগুনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তখনও রাসায়নিকের গুদামের কারণে আগুন নেভাবে হিমশিম খেতে হয়। আর তখন আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আসে। কিন্তু সেই নির্দেশনা নয় বছরের পুরোপুরি যে কার্যকর হয়নি সেটি চকবাজারের দুর্ঘটনাই বলে দিচ্ছে।

স্থানীয়রা যে তথ্য দিচ্ছেন তা হলো এই ভবনটির নিচতলায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের মজুদ ছিল। ওবায়দুল কাদের নিজেও সে কথা বলেছেন।

সড়ক মন্তী বলেন, ‘যে ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত তা থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গেছে। তার মানে এখানে প্রচুর ক্যামিকেল আছে। ঘিঞ্জি অবস্থা, গাড়িও ঢুকতে পারে না। এর মধ্যেও ফায়ার সার্ভিস যেভাবে

আগুন নিভিয়েছে এটাই প্রশংসার ব্যাপার।’

এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন রাখেন, নীমতলী ট্র্যাজেডির পরও সরকার কেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি।

কাদের বলেন, ‘তদন্ত যখন হবে তদন্তের যে ফলাফল সেটা তো ব্যবস্থা নেয়ার কথাই বলেছে। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি, এর অর্থগুলো কী? আমরা এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

এর আগে কাদের বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘২০১০ সালে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত দের পাশেই ছিল, নীরব দর্শনের ভূমিকা তারা পালন করেনি৷ সরকার কখনো আলস্যের পরিচয় দেয়নি। এই ঘটনা থেকে আমরা আবার শিখলাম। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব৷ মনোযোগী হব।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে এবং শেষ পর্যন্ত পুনর্বাসন পর্যন্ত মানবিক সাহায্য থেকে সব ধরনের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এটুকু আমি সরকারের পক্ষ থেকে বলতে পারি।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন ঘটনার অকুস্থলে গিয়ে সব জানতে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন।

‘আমরা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে আছি এবং তাদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে সরকার।’

ঢাকাটাইমস/২১ফেব্রুয়ারি/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :