চকবাজার ট্র্যাজেডি

রাসায়নিক পল্লী তৈরির ব্যর্থতা গড়াল নয় বছরে

মহিউদ্দিন মাহী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৫৪ | প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৯

আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নিতে কেরাণীগঞ্জের রাসায়নিক পল্লী গঠন হয়নি নয় বছরেও। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলিতে রাসায়নিকের গুদামে আগুন লেগে ১২৪ জনের প্রাণহানির পর ওই পল্লী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরিকল্পনা আর আগায়নি।

এর মধ্যে চকবাজার আগুনের রাজ্জাক ভবনে আগুনে ৭০ জনেরও বেশি প্রাণহানির পর জানা যাচ্ছে, সেখানেও ছিল রাসায়নিকের গুদাম। আর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আবার সামনে এসেছে ঘোষিত রাসায়নিক পল্লী গড়তে ব্যর্থতার বিষয়টি।

নিমতলী আগুনে মুহূর্তেই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর তালিকা করে ৮০০ রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা পুরান ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত কাজটি আর হয়নি। কার্যত ফাইলবন্দী অবস্থায় রয়েছে কেরানীগঞ্জে ‘কেমিক্যালপল্লী’ গড়ার উদ্যোগ।

সে সময় সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা কমিটি গঠন করে। 

এই কমিটি আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা সরানোর নির্দেশ দেয়। তখনই বুড়িগঙ্গার ওপারে আলাদা পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১১ সালের জুনে তৎকালীন বিসিক চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এই পল্লীর জন্য জায়গাও নির্ধারণ কমিটি করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে সভাপতি করে কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়।

সে সময় রাসায়নিকের দোকান, গুদাম ও কারখানা অপসারণে কমিটির কার্যপরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার দাহ্য পদার্থ শনাক্ত করতে করা হয় তিনটি সাব-কমিটি। ২০১২ সালে জায়গা নির্ধারণ কমিটি চারটি জায়গার প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে।  এরপর পল্লী নির্মাণের বিষয়টি আর আগায়নি।

কমিটির সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘কেমিক্যাল শিল্পপল্লী আলাদা না করলে এই সমস্যা সমাধান হবে না। একটা পল্লী তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের দোকান সরানো যাচ্ছে না।’

এক প্রশ্নর জবাবে ফায়ার সার্ভিসের সাবেক প্রধান বলেন, ‘পল্লী তৈরির বিষয়টি শিল্প মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। এটা নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি করা হয়েছে। সেটি বেশি এগোয়নি।’

এই পরিকল্পনাটি ছিল খুবই সুবিন্যস্ত। শহীদুল্লাহ জানান, পরিকল্পনা ছিল, যেখানে এই পল্লী হবে সেখানে সেখান থেকে সারা দেশেই নৌ এবং সড়কযোগে রাসায়নিক পরিবহন করা যাবে।

‘এটি হলে আর পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকায় কেমিক্যালের গুদাম থাকতো না।কেমিক্যাল পল্লীতে ছোট, মাঝারি এবং বড়-সবধরনের গোডাউন থাকবে, যাতে কারে সবাই এখানে ব্যবসা করতে পারে। এসব উদ্যোগের কথাও পরিকল্পনায় ছিল। ব্যবসায়ীরাও এটা চেয়েছিলেন। তারা গোডাউন নির্মাণের জন্য অগ্রিম টাকাও দিতে চেয়েছিল। কিন্তু উদ্যোগটি বেশিদূর এগোয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) জাকির হোসাইন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে পারব না।’    

তবে আবু নাঈম আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ২০১০ সালে ১২৪ জন নিমতলীতে মারা গেল। ওই এলাকায় অনেক সংগঠন আছে। অনেক নেতা আছে ওখানে। তাদের উচিত কোন কেমিক্যাল এখানে ঢুকতেই দেয়া হবে না-এমন একটা উদ্যোগ তাদের নেয়া।

জাতীয় শিল্প নিরাপত্তা কাউন্সিলের এই সদস্য বলেন, ‘যতোক্ষণ না কেমিক্যাল পল্লী তৈরি হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত যেখানে কেমিক্যাল আছে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা খুবই জরুরি। স্বপ্ল পরিকল্পনা হিসাবে এটা এখনই করা। আর দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেমিক্যাল পল্লী তৈরি করা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক শামসুল আলম বলেন, ‘নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই ওই এলাকার ঠিকানায় একটি লাইসেন্সও দেওয়া হয়নি। ওই এলাকায় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্সধারী কোনো গুদাম এখন নেই।’

‘রাসায়নিকের গুদাম করার ক্ষেত্রেই কেবল তাঁরা লাইসেন্স দেন। প্লাস্টিক বা রাবারের কারখানা করার ক্ষেত্রে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের (বংশাল) কাউন্সিলর আউয়াল হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে একটা কমিটি করার পর এ বছরের শুরুতে একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন ব্যবসায়ীরা সরে যেতে দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সরে যাননি।’

‘আমাদের খুব শিগগিরই আরেকটা মিটিং করে অভিযান চালানোর কথা। এরই মধ্যে আগুন লেগে গেল। মেয়র মহোদয় আবার জরুরি মিটিং ডেকেছেন, সেখানে এটা নিয়ে আলোচনা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২১ফেব্রুয়ারি/এমএম/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :