বাকপ্রতিবন্ধী ‘শিল্পী’ মিতু পায়নি ভাতার কার্ড

খাইরুল ইসলাম বাসিদ, পাবনা
 | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:০২

বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাস। কখনো তার শেখা হয়নি অঙ্কন শিক্ষা। কিন্তু প্রতিনিয়ত এঁকে চলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণিজনের ছবি। অসাধারণ প্রতিভাবান  এই তরুণীর ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি ভাতা!

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কুটিশ্বর ও গৃহিণী সুমিত্রা রানী দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য মিতু সম্প্রতি এই বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উঠানে বসে আর্ট পেপারে ছবি আঁকছে মিতু। কথা বলার প্রবল আকুতি তার! তার বোঝানোর ক্ষমতা বা দক্ষতা অন্য মেয়েদের চেয়ে বেশি।

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ছবি দেখে নিজে নিজে আঁকা শেখে মিতু। সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের এমন আগ্রহ ও প্রতিভা দেখে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা-মা। তবে মিতুর একটি ভাতার কার্ডের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে বাবা-মা ধরনা দিয়েছেন বহুবার। কিন্তু মেলেনি কোনো সহযোগিতা!

চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট মিতু। বড় বোন রেপা রানী দাসও বাকপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে তার বিয়ে দিয়েছেন বাবা-মা। মেজ বোন রিতা মাস্টার্স পাস করার পর বিয়ে হয়। একমাত্র ভাই রিপন কুমার দাস ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করেন। দ্রারিদ্র্যের মধ্যেই কুটিশ্বর দাস ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন।

বড় মেয়ের পর ছোট মেয়েও (মিতু) বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ায় খুব ভেঙে পড়েছিলেন বাবা কুটিশ্বর ও মা সুমিত্রা রানী দাস। তবে বড় হওয়ার পর তাকে (মিতু) স্কুলে ভর্তি করে দেন তারা। মিতুর বাবা-মা বলেন, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মিতু ছবি দেখে হুবহু আঁকতে শুরু করে। তারা ভেবে রেখেছিলেন প্রাইমারি পাস করলে আর পড়াবেন না। কিন্তু মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাধা দেননি আর।

সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করলেও মিতু তা পায় না। বাবা কুটিশ্বর বলেন, ‘মেয়ের ভাতার কার্ডের জন্য বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যানকে বলেছি। সমাজসেবা অফিসেও গেছি। কোথাও সহযোগিতা পাইনি।’

চাটমোহর শিল্পকলা একাডেমির অঙ্কন শিক্ষক মানিক দাস বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর আঁকা চিত্রকর্ম দেখে আশ্চর্য হয়েছি। এটা ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা। না শিখেই মিতুর মধ্যে যে প্রতিভার প্রকাশ ঘটেছে, এর আগে কোথাও দেখিনি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিতু অনেক দূর পৌঁছাবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমারকে মিতুর ব্যাপারে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর চিত্রকর্ম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার জন্য ভাতার কার্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি মিতুর সুপ্ত প্রতিভা যেন বিকশিত হয় সে দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন থেকে নেওয়া হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২২ফ্রেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :