ভ্যাটিকানকে ‘সমকামী সংস্থা’ বললেন ফরাসী লেখক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৪ | প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪০

ইতালির রোম শহরের ভেতরে অবস্থিত রোমান ক্যাথলিক গির্জার প্রধান কেন্দ্র ও স্বাধীন রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটিকে ‘সমকামী সংস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফরাসী লেখক ফ্রিডেরিক মারটেল। ‘দ্যা ভ্যাটিকান ইজ আ গে অর্গানাইজেশন’ অর্থাৎ ভ্যাটিকান এটা সমকামী সংস্থা নামের বই লেখার পর তা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। খবর বিবিসির।

ক্যাথলিক চার্চের প্রাণকেন্দ্রে কীভাবে দুর্নীতি এবং ভণ্ডামি লুকিয়ে আছে সেটাই  উন্মোচন করেছেন বলে জানিয়েছেন মারটেল। চার বছর ধরে অনুসন্ধান করে বইটি লিখেছেন তিনি।

বইয়ে মারটেল লিখেছেন, ‘কয়েক হাজার যাজক গোপনে সমকামী জীবনযাপন করেন। আবার তারাই জনসাধারণের সামনে এই সমকামিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে। তারা সমকামিতা নিয়ে যতটা সমালোচনা করেছে তারা গোপনে সমকামী জীবন উপভোগে ততোটাই কামুক।’

বিবিসিকে মারটেল বলেন, ‘চার বছরের অনুসন্ধানের ফলাফল এই বই। আমি কয়েকটা দেশে গিয়েছি। সেখানে কয়েক ডজন কার্ডিনাল, বিশপ, যারা যাজক হওয়ার জন্য শিক্ষা নিচ্ছে এবং যারা ভ্যাটিকানের সঙ্গে যুক্ত তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি।’

৪১ জন কার্ডিনাল, ৫২ জন বিশপ এবং দুইশর বেশি যাজক, শিক্ষার্থী এবং রাষ্ট্রদূতদের সাক্ষাতকার নিয়েছেন মারটেল। তিনি বলেন, ‘অনেক তরুণ যারা তাদের গ্রামে নিজেদের যৌন বৈশিষ্ট্যের জন্য নিগৃহীত হয় তারা পালানোর একটা পথ হিসেবে যাজক জীবনকে বেছে নেয়। এভাবেই চার্চ একটা ইন্সটিটিউশনে পরিণত হয়েছে যেখানে বেশিরভাগ সমকামী।’

মারটেল বলেন, ‘আমি আবিষ্কার করেছি ভ্যাটিকান একটা উচ্চ পর্যায়ের সমকামী সংস্থা। সমকামীরা একটা কাঠামো তৈরি করেছে যার ফলে দিনে তারা তাদের যৌন বৈশিষ্ট্য দমন করে রাখে। কিন্তু রাতে প্রায় ক্যাব (গাড়ী) নিয়ে সমকামী বারে যায়।’

মারটেল কে একটা সূত্র বলেছে ভ্যাটিকানে ৮০ শতাংশ সমকামী কিন্তু ফ্রেন্স এই লেখক নিরপেক্ষভাবে সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে পারেননি।

লেখক বলেছেন, তিনি এমন অনেক প্রমাণ পেয়েছেন যেসব যাজকরা জনসাধারণের কাছে সমকামিতা নিয়ে কটাক্ষ করে কিন্তু ব্যক্তি জীবনে তারা সমকামী। এমন হাজারো উদাহরণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মারটেল যে অভিযোগ করেছে সেটা নিয়ে মন্তব্য করার জন্য ভ্যাটিকানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পায়নি বিবিসি। তবে ধর্মতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ জেমস মার্টিন ফরাসী এই লেখক যে উপায়ে সাক্ষাৎকার থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, ‘মারটেল তার বই এর জন্য গভীর অনুসন্ধান করেছেন এবং তিনি চার্চে সমকামিতা এবং ভণ্ডামির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছেন। কিন্তু এই ধারণা বরফ ধসের নীচে যেমন চাপা পড়ে তেমনিভাবে চাপা পড়ে যাবে পরোক্ষ বক্রোক্তি, রটনা, গুজবের মতো করে। এটা পাঠকদের হতবিহবল করে দিবে। এটা তাদের জন্য কঠিন হবে বাস্তবতা এবং মিথ্যা গল্পের মধ্যে পার্থক্য করা যেমন কঠিন কাজ তেমনটা।’

ঢাকা টাইমস/২৩ফেব্রুয়ারি/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :