বিআইবিএমের মহাপরিচালক কে হচ্ছেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:০০ | প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:০১

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক পদ শুন্য হওয়ার পর এখন চলছে সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। জোর লবিং করছেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত নিয়োগ কে পাবেন এই অপেক্ষায় পুরো ব্যাংকিং খাত। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বোর্ড সভায় বিষয়টি নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক পদে গত ১৬ জানুয়ারি মেয়াদ শেষ করেছেন ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। ২০১০ সালে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে প্রায় ৯ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষমেশ সেটি হচ্ছে না।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, অভ্যন্তরীণ যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ পাওয়ায় গত এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং কনসালটেন্সি কাজে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কনসালটেন্সি এবং যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মালয়েশিয়ার একাধিক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোর্স পরিচালনাসহ বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও বিআইবিএম সমাদৃত হয়েছে।

এসব কারণে বিআইবিএম তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য গভর্নিং বোর্ড ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আইনি মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধিবিধানে ৬৫ বছরের পর নিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবু তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে তার মেয়াদ আর বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান গভর্নিং বোর্ডের একাধিক সদস্য।

গত ২৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির বয়স ৬৫ বছর পার হলে তিনি ব্যাংকের কোনো পদে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত হতে বা অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। তবে পরামর্শক ও উপদেষ্টা পদে ব্যাংক বিশেষ প্রয়োজনে ৬৫ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিতে বহাল রাখতে অথবা নিয়োগ দিতে পারবে।

এদিকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে বিআইবিএমের মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিম। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় শীর্ষে ছিলেন তিনি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠায় সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এ বিষয়ে দুদক অনুসন্ধানের কথা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানোর পর ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের প্যানেলটি বাতিল করা হয়। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুদকের প্রতিবেদনের কারণে ডেপুটি গভর্নরের পদে আবদুর রহিমের নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাছাড়া একই কারণে অবসর গ্রহণের পর ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী নাও হতে পারে। এসব কারণে তিনি বিআইবিএমে নিয়োগ পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন। এ বছরের মাঝামাঝিতে অবসরের যাবেন আবদুর রহিম।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়, আবদুর রহিম রূপালী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়ম করেন। তিনি বেআইনিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন ও ঋণ বিতরণে সহায়তা করেন। অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য জোর আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মো. আক্তারুজ্জামান। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, গবেষণা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ইসকান্দার মির্জাও এ পদে নিয়োগ পেতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিআইবিএমের জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাহ্ মো. আহসান হাবিবসহ আরও কয়েকজন আছেন তদবির তালিকায়। আহসান হাবিবের রয়েছে ব্যাংকিং খাত সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং শিক্ষায় দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা। গত এক দশকে বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিআইবিএমের অধ্যাপক মহিউদ্দিন ছিদ্দীক ও ড. তাজুল ইসলামের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজ নিজ এলাকার একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও আমলার মাধ্যমে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। তাই ২৬ ফেব্রুয়ারির বোর্ড সভায় তাদেরও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আনছে গভর্নিং বোর্ড।

প্রতিযোগিতায় থাকা কৃষি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি লিয়াকত হোসেন মোড়ল কৃষি ব্যাংকের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দায়িত্ব পালন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা তার নেই। নেই কোনো গবেষণাকর্ম। সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের কোনো একটিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতেও তৎপর তিনি।

এ ছাড়া বিআইবিএমের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে চেষ্টা করছেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের একাধিক  প্রভাবশালী শিক্ষক।

মহাপরিচালক নিয়োগের বিষয়ে একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বিআইবিএমের চলমান সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যোগ্যতম প্রার্থীই এ পদে নিয়োগ পাবেন বলে তারা আশাবাদী।

(ঢাকাটাইমস/২৩ফেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :