লেখক-প্রকাশক নাফে নজরুল

‘আগামীবার শিশুদের জন্য আরো চমক থাকবে’

সায়রা সামসিয়া
ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:৩৪ | প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:২২

নাফে নজরুল। শিশু সাহিত্যিক ও প্রকাশক। তার প্রকাশনা ‘সপ্তডিঙ্গা’ থেকে এবার বের হয়েছে নতুন ২২টি শিশুতোষ বই। শিশু কর্ণারের এবারের সার্বিক চিত্র, আগাম পরিকল্পনা এবং শিশু সাহিত্যের নানা সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকা টাইমসের সাথে কথা বলেন তিনি। আলাপচারিতায় ছিলেন সায়রা সামসিয়া।

শেষ সপ্তাহ চলছে বইমেলার। শিশু কর্ণারে এবারের সার্বিক চিত্র কেমন দেখলেন?

নাফে নজরুল:  ২০০১ থেকে বইমেলায় অংশগ্রহণ করছি। এবারের চিত্র বিগত বছরগুলোর তুলনায় খুব ভালো। শিশুদের সরব উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল এবার। তার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে এবারের মেলা খুব গোছানো। বিশেষ করে শিশু কর্ণারের সাজসজ্জা ও স্পেস বেশি হওয়ায় সেটি শিশুদের অনেক আকর্ষণ করেছে। তার সঙ্গে নতুন নতুন ভালো শিশুতোষ বই তো রয়েছেই। লেখক ও প্রকাশকদের হতাশার চিত্রও এবার দেখা যায়নি। সর্বোপরি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল শিশু কর্ণারে।

শিশুদের আগ্রহ বেশি কোন ধরনের বইয়ে?

নাফে নজরুল: বিজ্ঞান ভিত্তিক বইয়ে শিশুদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।  তাছাড়া রূপকথা, ছোট গল্প, ছড়া এগুলো নিয়েই শিশুদের আগ্রহটা বেশি দেখা যায়।

আপনার নতুন বই কোনটি? কেমন সাড়া পেলেন?

নাফে নজরুল: আমার নতুন বই ‘জন্মদিনে আম্মুর উপহার’। ‘সাত ভাই চম্পা’ প্রকাশনী থেকে বইটি বের হয়েছে। ভালই সাড়া পেয়েছি।

সপ্তডিঙ্গার বেস্ট সেলার বই এবার কোনটি? 

নাফে নজরুল: এবার বেস্ট সেলার বই শামীম হাসনাইনের ‘বিজ্ঞানের বিস্ময় ও আবিষ্কারের গল্প’। ফারুক হোসেনের ‘নীতিকথার গল্প’ এই বইটিও অনেক বিক্রি হয়েছে।

নতুন লেখকরা সময় উপযোগী নতুন গল্প কেমন লিখছে? সেগুলো এই প্রজন্মের শিশুদের আকৃষ্ট করতে পারছে কি?

নাফে নজরুল: নতুনরা অনেক ভালো লিখছে। শিশুরাও সেগুলো সানন্দে গ্রহণ করছে। তবে এই বিষয়ে অভিবাবকদের ও দায়িত্ব আছে। তারা যদি নিজেরা সেই বই গুলোর মান যাচাই করে শিশুদের পড়ার জন্য উৎসাহিত করে তাহলে অবশ্যই নতুন লেখকদের শিশু পাঠক গড়ে উঠবে। ভার্চুয়াল গেমসে আসক্ত না হয়ে এই প্রজন্মের শিশুদের বই পড়ায় অভ্যস্ত করতে শিশু সাহিত্যিকদের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি শিশুর বাবা মায়েদেরও করণীয় আছে বলে আমি মনে করি। 

শিশু সাহিত্যের সাথে যারা ভবিষ্যতে সম্পৃক্ত হতে চান তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কি থাকবে?

নাফে নজরুল: সবার আগে পড়ে ফেলতে হবে ২০০ বছরের শিশু সাহিত্যের ইতিহাস। হুট করে এসেই যে কেউ শিশু সাহিত্য নিয়ে লিখতে পারবে না। আর ইতিহাস জানা থাকলে একজন নব্য শিশু সাহিত্যিকের গবেষণার কাজটি সহজ হয়ে যায়। এছাড়াও শিশুদের মনস্তত্ত্ব জানতে ও বুঝতে হবে। কোন বিষয় নিয়ে লিখলে শিশুরা আনন্দ পাবে, নতুন কিছু শিখবে এই দিকগুলো শিশু সাহিত্যের সাথে যারা ভবিষ্যতে সম্পৃক্ত হতে চান তাদের মাথায় রাখতে হবে।

আগামী বছর শিশু কর্ণারে নতুন সংযোজন কি থাকছে?

নাফে নজরুল: আগামী বছর আমরা চেষ্টা করবো শিশু কর্ণারে স্বতন্ত্র একটি লেখক-পাঠকদের আড্ডা স্থান রাখার। যেখানে শিশুরা সরাসরি কবি, লেখকদের সাথে গল্প করবে, মত বিনিময় করবে। প্রকৌশলী ও কবি হাবীবুল্ললাহ সিরাজী এটা নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছি, আগামী বছর শিশুদের জন্য আরও নতুন চমক থাকবে।

ঢাকাটাইমস: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

নাফে নজরুল: আপনাকে ও ঢাকাটাইমসকেও ধন্যবাদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত