শপথে অনড় মনসুর, আপাতত ‘না’ মোকাব্বিরের

প্রকাশ | ০৬ মার্চ ২০১৯, ১৮:৪৪ | আপডেট: ০৬ মার্চ ২০১৯, ১৮:৪৭

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস

৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিজয়ী দুই নেতা সংসদ সদস্যের শপথ নেবেন কি নেবেন না তা নিয়ে শুরু হওয়া দোটানা কাটিয়ে উঠতে পারছে না কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। দলের দুই নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির হোসেন শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে বৃহস্পতিবার। এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে রেখেছে সংসদ সচিবালয়। এরমধ্যে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ নিতে অনড় হলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে আপাতত শপথে যাচ্ছেন না মোকাব্বির খান।

সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় স্পিকারের কার্যালয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খানের শপথ অনুষ্ঠান হবে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ পড়াবেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। আর মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই কামাল হোসেনের গণফোরামের স্থায়ী কমিটির সদস্য।

নির্বাচনে জয়ী হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে এতদিন শপথ নেননি এই দুই নেতা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত রয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট থেকে নির্বাচিত আটজনের কেউই শপথ গ্রহণ করবেন না। জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথাও জানিয়ে আসছে গণফোরাম।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন শুরুতে তার দলের দুই নেতার শপথের বিষয়টিকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখলেও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সুর বদলায় তার।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথের সিদ্ধান্ত নেয়া দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়- তা ঠিক করতে বৈঠক করেছেন গণফোরামের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি নেতারা।

আজ আবার দুই নেতার শপথের বিষয়ে বসেছে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠক। দলের সিনিয়র নেতাদের একটি অংশ দুই নেতার শপথ নেওয়ার পক্ষে। আরেকটি অংশ শপথ নেয়ার বিপক্ষে।

যারা শপথ নেয়ার পক্ষে তারা মনে করেন, ‘এটি রাজনৈতিকভাবে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে’। শপথ নেয়ার বিপক্ষের অংশটি মনে করেন, ‘শপথ নেয়ার অর্থ হচ্ছে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’

গণফোরামের দুইজন নির্বাচিত সাংসদের শপথের বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারা শপথ নিলে অবশ্যই আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। দলীয় সিদ্ধান্ত ও আইনগত সিদ্ধান্ত যা নেয়া দরকার, সেগুলো আমরা নেব।’

জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে সুলতান মনসুর বলেন, ‘আমি আগামী কাল শপথ নেব। আমাকে আমার এলাকার জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, তাদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে।’

মোকাব্বির খানের শপথের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শপথের জন্য আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছি। তিনি নেবেন কি নেবেন না সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

অন্যদিকে মোকাব্বির খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি দলের প্রেসিডিয়াম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাল (বৃহস্পতিবার) শপথ নিচ্ছি না। পরবর্তীকালে দল সিদ্ধান্ত দিলে সেটা পরে দেখা যাবে। তবে আপাতত শপথ নিচ্ছি না।’

গণফোরামের একটি সূত্র মতে, অনিবার্য কারণে দেখিয়ে বৃহস্পতিবার শপথ নিতে পারবেন না বলে সংসদ সচিবালয়ে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন মোকাব্বির খান।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’

ঢাকাটাইমস/০৬মার্চ/ডিএম