‘আমাকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৮ মার্চ ২০১৯, ২১:২২

তুচ্ছ ঘটনার জেরে হৃদয় নামে এক যুবককে মেরে গুরুতর আহত করার মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদ করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদ। তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এমনকি যখন এই ঘটনা ঘটে তখন তিনি কুষ্টিয়ায় ছিলেন না। পারিবারিক একটি প্রোগ্রামে রাজবাড়ীতে ছিলেন। তিনি এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  

জানা যায়, গত ১ মে খাজানগর নর্থ বেঙ্গল রাইচ মিলের চাতালে ওয়াজ মাহফিল চলাকালে বাদামের খোসা ফেলাকে কেন্দ্র করে খাজানগর গোলবার সর্দার পাড়ার দিপু, হাসান ওরফে হোল্ডার ও হানিফের সঙ্গে দোস্তপাড়ার হৃদয়, সুমন, জিহাদ ও রাসেল মণ্ডলের প্রথমে তর্কাতর্কি পরে এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার একদিন পর ৩ মে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে হৃদয়ের নেতৃত্বে সুমন, জিহাদ ও রাসেল মণ্ডলসহ আরও ৫/৬ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে দিপু, হাসান ওরফে হোল্ডার  ও হানিফকে মারার উদ্দেশে খাজানগর উত্তরপাড়ায় যান।

প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য মতে জানা যায়, উত্তরপাড়ায় নির্মাণাধীন জিয়া দর্জির বাড়ির সামনে হৃদয়, সুমন, জিহাদ ও রাসেল মণ্ডল লাঠিসোঁটা সহকারে দিপু, হাসান ওরফে হোল্ডার  ও হানিফকে মারতে থাকেন। একপর্যায়ে গ্রামের লোকজন বের হয়ে এলে সুমন, জিহাদ ও রাসেল মণ্ডলসহ ৫/৬ জন পালিয়ে যান। কিন্তু হৃদয়কে দিপু ঝাপটে ধরে ফেলেন। পরে দিপু হাসান ওরফে হোল্ডার ও হানিফ হৃদয়ের হাতে থাকা লাঠি দিয়েই তাকে মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলেন। পরে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে হৃদয়কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে হৃদয় সেখানে আইসিইউর অধীনে পোস্ট অপারেটিভ রুমে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনায় হৃদয়ের চাচা আবুছ উদ্দিন বাদী হয়ে গত ৪ মার্চ কুষ্টিয়া মডেল থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০/১২ জন অজ্ঞাতনামার নামে মামলা করেন।  এ মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদকে ৪নং আসামি করে প্রধান হিটার হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনার আগে এবং পরের কিছুই জানি না, ঘটনার তিন দিন আগে থেকেই আমি আমার বোনের ছেলের সুন্নতে খাতনা উপলক্ষে সপরিবারে রাজবাড়ির কালুখালী অবস্থান করছিলাম। আওয়ামী লীগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা এবং বটতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।’

শাকিল বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি এবং জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফ কাকুর কাছে আকুল আবেদন করছি তিনি যেন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।’

তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যেহেতু আমার নামে মামলা হয়েছে সেজন্য আমি অচিরেই নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করবো।’ 

এ বিষয়ে ভারতে অবস্থানরত কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শাকিল আহমেদকে জড়িয়ে যে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি।’

(ঢাকাটাইমস/০৮মার্চ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :