পত্রিকায় সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধে অভিনব প্রতিবাদ

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১০ মার্চ ২০১৯, ১৭:৪৭

উপযুক্ত কারণ ছাড়াই বন্ধ সরকারি বিজ্ঞাপন। তার জেরে অভিনব প্রতিবাদ জম্মু-কাশ্মিরে। তাতে যোগ দিল রাজ্যের সমস্ত সংবাদপত্র। রবিবার প্রথম পাতা ফাঁকা রেখে কাগজ ছেপেছে তারা। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলেরও ডাক দেওয়া হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই বিপত্তির সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। হামলার পরদিন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের নির্দেশে আচমকাই রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ইংরেজি সংবাদপত্র, গ্রেটার কাশ্মির এবং কাশ্মির রিডারকে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে খবর।

তবে কী কারণে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হলো, তা সবিস্তারে জানানো হয়নি। এমনকি, বিজ্ঞাপন যে আর দেওয়া হবে না, সেই মর্মে লিখিত বিবৃতিও প্রকাশ করেনি প্রশাসন। বার বার জিজ্ঞাসা সত্ত্বেও জবাব না মেলায় শেষমেশ প্রতিবাদে নামতে সম্মত হয় রাজ্যের সমস্ত সংবাদপত্রগুলি। কাশ্মির এডিটরস গিল্ডের (কেইজি) গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী রবিবার প্রথম পাতা ফাঁকা রেখে কাগজ ছাপে তারা। তাতে বলা হয়, ‘গ্রেটার কাশ্মির ও কাশ্মির রিডারের সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো কৈফিয়তও দেওয়া হয়নি। এই অবিচারের প্রতিবাদে পাতা ফাঁকা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’

সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে এর আগে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিল কাশ্মির এডিটরস গিল্ড। একটি বিবৃতি প্রকাশ করে তারা জানায়, ‘সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। রাজ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।’

শুক্রবার এডিটরস গিল্ডের তরফে রাজ্য প্রশাসনের কাছে লিখিত জবাবও চাওয়া হয়। গিল্ডের মুখপাত্র বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতে লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। সেই পরিস্থিতিতে কাশ্মিরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্রের সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখা হয়েছে।  ভারতের সংবিধানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ওই ধারাকেই আঘাত করেছে।’

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ওই দুই সংবাদপত্র। পাতার সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে তারা। আগে ২০ পাতার কাগজ বের করত গ্রেটার কাশ্মির। এখন তা এসে দাঁড়িয়েছে ১২ পাতায়।  কাশ্মির রি়ডারও পাতার সংখ্যা ১৬ থেকে কমিয়ে ১২ করেছে।

গোটা ঘটনায় সত্যপাল মালিকের প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। নিজের টুইটার হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘উপত্যকার বাইরে ব্যাপারটা নিয়ে কেউ বিশেষ মাথা ঘামাচ্ছে না।  এভাবে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়ে আদতে সংবাদমাধ্যমের গলা টিপে ধরতে চাইছে সরকার। আশা করি কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য প্রশাসন অবিলম্বে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে।’

রাজ্যের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি লেখেন, ‘গ্রেটার কাশ্মির জম্মু-কাশ্মিরের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদপত্র।  তাদের সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্তে, সংবাদমাধ্যমের প্রতি সরকারের আচরণই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।  বোঝা যাচ্ছে যে,  ওদের গুণগান না করলেই এভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’

যদিও এই প্রথম নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞাপন থেকে দীর্ঘদিনই ব্রাত্য গ্রেটার কাশ্মির। ২০০৮ সালে তাদের সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিরেক্টরেট অব অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড ভিসুয়াল পাবলিসিটি দপ্তর। ২০১৬ সালে উপত্যকায় বিজেপি-পিডিপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তিন মাস বিজ্ঞাপন বন্ধ ছিল কাশ্মির রিডারের।  বিজেপি-পিডিপি জোট সরকার ভেঙে গেলে ২০১৮ সালের জুন মাসে জম্মু-কাশ্মিরে রাজ্যপাল শাসন জারি হয়। ছয় মাস পর তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে ডিসেম্বর মাসে চালু হয় রাষ্ট্রপতি শাসন।

-আনন্দবাজার

(ঢাকাটাইমস/১০মার্চ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :