সৌ্দি রিয়াল বিক্রির নামে প্রতারণা করতেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৭:২৫ | প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৬:২০

রাজধানীর অভিজাত এলাকার রাস্তায় বিক্রি হতো সৌদি রিয়াল। কম দামে রিয়াল পেয়ে অনেকে তা কিনতেন। পরে রিয়ালের বান্ডিলে খুলে দেখা যেতো প্রথম ও শেষের নোট বাদে বাকিগুলো সাদা কাগজ।

এভাবেই মানুষের কাছে টাকা হাতিয়ে নিতো একটি চক্র। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দামি গাড়ি টার্গেট করে এ কাজ করে আসছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

তারা হলেন- চক্রের প্রধান আবু শেখ ও তার সহযোগী শাহিন মাতব্বর, মহসিন মিয়া, আবুল বাশার, কামরুল শেখ, ইশারত মোল্লা ও আব্দুর রহমান মোল্লা।অভিযানে তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল, নগদ চার হাজার টাকা ও দশটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার-বিন-কাশেম।  

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সংস্থাটির মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক জানান, ‘রাজধানীর গুলশান ও বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা দামি গাড়ি টার্গেট করে রিয়াল বিক্রি করত চক্রটি। কম দামে বিদেশি টাকা পেয়ে অনেকে তাদের ফাঁদে পা দিতেন। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা বান্ডিল ধরে রিয়াল কিনতেন। বান্ডিল খুলে দেখার আগেই তারা (প্রতারকরা) বলতেন, পুলিশ আসছে, ঝামেলা হবে। এই বলে টাকা নিয়ে সটকে পড়তেন। পরে দেখা যেত, ওপরে ও নিচে কয়েকটা রিয়াল বাদে বাকিগুলো সাদা কাগজ।’

চক্রটি হজ মৌসুমে হাজী ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় এভাবে প্রতারণা করত বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘হজ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজীদের টার্গেট করে তারা এই সৌদি রিয়াল বিক্রি করতেন।  অনেকে কম দামে রিয়াল পেয়ে যাচাই-বাছাই না করে সেগুলো কিনে প্রতারিত হতেন।’

‘সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতেন। বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিরা খুশি হয়ে তাদের অনেক রিয়াল উপহার দিয়েছেন কিংবা ইজতেমায় সৌদি রিয়াল কুড়িয়ে পেয়েছেন- এমন কথা বলতেন। জানতে চাইতেন, কীভাবে সেসব টাকা তারা ভাঙাবেন। অনেকে তাদের কাছ থেকে কম দামে সেগুলো কিনতে আগ্রহী হতেন। এ সময় চক্রটি তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় আসতে বলতেন।  রিয়াল বিক্রির আলাপের ফাঁকে তারা আসল টাকার মধ্যে সাদা কাগজ দিয়ে বান্ডিল তৈরি করে বিক্রি করতেন। যা খুবই দক্ষতার সঙ্গে করতেন।’

এভাবে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

চক্রের প্রধান আবু শেখ রঙমিস্ত্রির কাজ ও রিকশা চালাতেন। এভাবে তিনি টার্গেট খুঁজে রিয়াল বিক্রি করতেন। তার সহযোগী আবু শেখও রঙমিস্ত্রি। আর বাকিরা তাদের হয়ে প্রতারক চক্রে কাজ করতেন।  

(ঢাকাটাইমস/১৫মার্চ/ওআর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :