সহপাঠীর মৃত্যুর বিচার দাবি

বুধবারও রাস্তায় নামবে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২১:১৫ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৯:০৬

বাসচাপায় সহপাঠী আবরার আহম্মেদ চৌধুরীর মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর নর্দ্দা এলাকায় মঙ্গলবার দিনভর সড়ক অবরোধ শেষে উঠে গেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বুধবার সারাদেশে ক্লাস বর্জন ও সড়ক অবরোধের আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ শেষে সাংবাদিকদের পরবর্তী কর্মসূচি জানান বিইউপি শিক্ষার্থী মায়েশা নূর।

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘বুধবার থেকে আমাদের আন্দোলন চলবে। সেদিন সকাল ৮টা থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বর্জন করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবেন।’

মায়েশা বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন গত বছরের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধাবাহিকতা। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আমাদের এই আন্দোলনে গত বছরের মতো কোনো হামলা ও রক্তাক্ত চেহারা দেখতে চাই না। আমরা পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে নিরাপত্তা চাই। আমাদের আন্দোলনের সময় আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় আবরার আহম্মেদ চৌধুরীর মৃত্যুর প্রতিবাদে সকাল থেকে রাজধানীর নর্দ্দা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে ইস্টওয়েস্ট ও নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।

প্রথমে ১২ দফা দিলেও পরে তারা আট  দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলেও ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তবে বুধবার সকাল থেকে আবারও তারা রাস্তায় নামার ঘোষণা দেয় তারা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মায়েশা নূর বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আট দফা দাবি দিয়েছি। এটা গণমাধ্যমে চলে এসেছে। আমাদের এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন না। আমাদের এই আন্দোলনে রাজনৈতিক কোনো দল বা ব্যক্তিকে গ্রহণ করবো না। সবাই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেবেন। আমরা আমাদের অভিভাবকদের এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।’

আট দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি–এ কথা উল্লেখ করে মায়েশা নূর বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি বলতে বাসচালকের ফাঁসি চেয়েছি।’তিনি বলেন, ‘গতবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে জাবালে নূরের রোড পারমিট বাতিল করা হয়েছিল বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু জাবালে নূর এখনো রাস্তায় চলছে। আমরা জাবালে নূর ও সুপ্রভাত বাস রাস্তায় দেখতে চাই না।’

এর আগে দুপুরে মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও তারা সড়ক ছাড়েনি।

পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে একাত্মতা ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (ডাকসু)র নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরু।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি

১. পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং প্রতিমাসে বাসচালকের লাইসেন্সসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে হবে।

২. আটক  হওয়া চালক ও সম্পৃক্ত সকলকে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৩. আজ  থেকেই ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুততম সময়ে অপসারণ করতে হবে।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সকল স্থানে আন্ডার পাস, স্পিড ব্রেকার ও ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

৫. চলমান আইনের পরিবর্তন করে সড়কে হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৬. দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭. প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ এবং যাত্রী ছাউনী করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৮. ছাত্রদের হাফপাস অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/বিইউ/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :